
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনের পর গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৮৬ বছর বয়সি প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয় এবং যথারীতি আলোচনা শুরু হয় তার নতুন উত্তরসূরি নিয়ে। তবে এরই মধ্যে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) চাপের মুখে ইরানের নীতিনির্ধারণী পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।
মোজতবা খামেনি সম্পর্কে যা জানা গেল
৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। খবরে বলা হচ্ছে, মোজতবা একজন মধ্যম পর্যায়ের আলেম। তিনি তার বাবার মতো ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি ধারণ করেন না। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ওঠা ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মোজতবার প্রভাবের পেছনে আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কিছু কিছু খবরে বলা হচ্ছে, তাকে সমর্থন দিতে আইআরজিসি বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি সরকারগুলো মোজতবাকে নির্বাচন রাজনীতি ও নিরাপত্তা দমনপীড়নে ভূমিকা রাখার দায়ে অভিযুক্ত করে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলী খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।
সর্বোচ্চ নেতা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং আইআরজিসির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রমে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বলয়ের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমস গত বছরের এক খবরে জানিয়েছিল, আলী খামেনি তার পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে যে তিনজন জ্যেষ্ঠ আলেমের নাম বিবেচনায় নিয়েছিলেন, সেখানে মোজতবার নাম ছিল না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানে শীর্ষ নেতার মৃত্যু মানেই তাৎক্ষণিক শাসন পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সাধারণত ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এশিয়া পোস্ট




