বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রস্তাবটি জাতিসংঘে তোলা হয়। নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবের ওপর ভোটের ফলাফল ছিল—১১টি পক্ষে, দুটি বিপক্ষে এবং বাকি দুটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। সংবাদমাধ্যম এপির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, রাশিয়া ও চীন যেন ভেটো না দেয়, এই আশায় প্রস্তাবটিকে বারবার সংশোধন করে নমনীয় করা হয়েছিল।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা ভোটটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) ডেডলাইন শেষ হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি এই কৌশলগত জলপথটি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি গৃহীত হলেও এটি পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের ওপর কতটা প্রভাব ফেলত, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ, রাশিয়া ও চীনের ভেটো এড়াতে প্রস্তাবটিকে এতটাই দুর্বল করা হয়েছিল যে এতে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল বলে লিখেছে এপি।
প্রস্তাবের সংশোধন
বাহরাইনের প্রাথমিক প্রস্তাবে দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে এবং এটি বন্ধের যে কোনো প্রচেষ্টা রুখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের পরিভাষায় সামরিক অভিযানের শামিল।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করার পর, প্রস্তাবটি সংশোধন করে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের সব উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়। এতে কেবল ‘প্রয়োজনীয় সব রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা’ গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক পথটি ব্যবহারে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোকে তাদের প্রচেষ্টায় সমন্বয় করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা হবে রক্ষণাত্মক প্রকৃতির এবং পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌচলাচল নিশ্চিত করা যায়।
এতে আরও বলা হয়েছিল যে, এই প্রচেষ্টার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে বাধা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও ইরানকে অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়েছিল।
রাশিয়া ও চীনের অবস্থান
রাশিয়ার জাতিসংঘ দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এবং চীনের দূত ফু কং এই যুদ্ধের সূচনা এবং বৈশ্বিক সংকট বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। গত সপ্তাহে তারা নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছিলেন, এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা।




