বেড়িয়ে আসছে বাশারের নৃশংসতার চিত্র

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

একে একে বেড়িয়ে আসছেন সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাসার আল আসাদের কুখ্যাত কারাগারের বন্দীরা। গোপন বন্দীশালাগুলোতে চরম নৃশংসতায় মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। বাশার দেশ ছেড়ে পালানোর পর বিদ্রোহীরা এসব কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বন্দীদের মুক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

বিদ্রোহীরা যেসব কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নেন, সেগুলোর একটি সাইদনায়া কারাগার। বন্দীদের নিপীড়নের জন্য এই কারাগারের কুখ্যাতি রয়েছে। দামেস্ক প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারটির গোপন কক্ষ থেকে বন্দীদের মুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের প্রায় শ্বাসরোধ হয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কারাগার ভেঙে বন্দীরা বেরিয়ে আসছেন। জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য সিরিয়ায় সুনাম রয়েছে বেসরকারি সংস্থা হোয়াইট হেলমেটসের। সংস্থাটির সদস্যরা দ্রুত বন্দীদের মুক্ত করার জন্য কাজ করছেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওই কারাগারে একটি গোপন দরজা পাওয়া গেছে। যেটি দিয়ে ভূগর্ভস্থ চেম্বারে যাওয়া যায়। মাটির নিচে সেখানে ৫ তলা পর্যন্ত গোপন কক্ষ রয়েছে। এটির সন্ধান পাওয়ার পর শত শত স্বজনহারা মানুষ তার প্রিয়জনের খোঁজ পেতে সেখানে জড়ো হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, সাইদনায়া কারাগার থেকে বেঁচে ফেরা, কারাগারে নির্যাতনের শিকার এবং সেখানে বন্দী আছেন, এমন অনেকের পরিবার নিয়ে ২০১৭ সালে গঠিত হয় অ্যাসোসিয়শন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড মিসিং পারসনস অব সাইদনায়া।

২০২২ সালে সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সাইদনায়া কারাগার ‘মৃতুশিবিরে’ পরিণত হয়। তাদের হিসাবে ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি বন্দীকে হত্যা করা হয়েছে অথবা নির্যাতন বা চিকিৎসার অভাবে বা অনাহারে মারা গেছেন। আর ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০ বন্দীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

শারাভান নামে এক নাগরিক বিবিসিকে বলেন, কারাগার থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দামেস্কের আল-সালাম মসজিদে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সাইদনায়া কারাগারের অনেক বন্দীকে আনা হয়েছিল, যাতে তাঁদের পরিবার তাঁদের খোঁজ পায়।

শারভান বলেন, তিনি মসজিদে দুজনের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা অনেক বছর ধরে ওই কারাগারে বন্দী ছিলেন। ওই দুজনের কাছে সবকিছু অপরিচিত ছিল। তিনি বলেন, এমনকি তাঁদের দিনের সময়জ্ঞানও ছিল না। ঘিরে থাকা অনেকে তাঁদের নাম ও বয়স জানতে চাইছিলেন; কিন্তু তাঁরা সেই উত্তরও দিতে পারছিলেন না। শারভান বলেন, এসব মানুষ পুরোপুরি নিঃস্ব। তাঁরা শুধু এদিক-সেদিক দেখছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top