বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর শহরে ১৮০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফতেহপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বান্দা-ফতেহপুর সড়কের ওপর সেই মসজিদের একাংশ পড়ে ছিল। এ কারণে মঙ্গলবার মসজিদটির ওই অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
মাত্র কয়েকদিন আগেই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কোন স্থাপনার ওপর বুলডোজার চালানো আইনের শাসনের পরিপন্থী। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা করেনি স্থানীয় প্রশাসন।
ফতেহপুর শহরে অবস্থিত মসজিদটির নাম নূরী জামে মসজিদ। এর একাংশ ভেঙে ফেলার বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মসজিদের একাংশ সড়কের ওপর পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়ার পর সুরাহার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মসজিদ কমিটি। কিন্তু আদালতের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসার আগেই মসজিদটির একাংশ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটল।
এ বিষয়ে নুরী মসজিদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান মোহাম্মাদ মঈন খান বলেন, নুরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল ১৮৩৯ সালে, আর সড়কটি তৈরি করা হয়েছে ১৯৫৬ সালে। তারপরও বলা হচ্ছে মসজিদের কিছু অংশ সড়কের ওপর পড়েছে।
এ বিষয়ে ফতেহপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘মসজিদ কমিটি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য হয়নি। আজ মসজিদের যে অংশ ভাঙা হয়েছে, সেটি এর বর্ধিত অংশ। মসজিদের মূল ভবন অক্ষত রয়েছে।’
ভারতের উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের স্থাপনায় বুলডোজার চালানো একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে প্রায়ই মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া দেশটিতে নানা অজুহাতে মসজিদ উচ্ছেদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




