ডেস্ক রিপোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের দাবি, এই কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’। এ নিয়ে গত বছর থেকে কয়েক দফায় পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরেও আলোচনা তৃতীয় দফা শেষে চতুর্থ দফায় গড়ানোর আগেই অতর্কিতভাবে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকালে রাজধানী তেহরানে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ে হামলা করা হয়। এ সময় অন্তত ৩০টি বোমা ফেলা হয় সেখানে। নিহত হন খামেনিসহ তার পরিবারের কিছু সদস্য।
এ ছাড়াও প্রাণ যায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরসহ (আইআরজিসি) দেশটির শীর্ষ ৪০ নেতা ও কর্মকতার। এ পর্যন্ত ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এক হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ২২৩ নারী ও ২০৬ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে ইরান সরকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে আজ শনিবার (১৪ মার্চ) কতজন মানুষ নিহত হয়েছেন তার উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে ১ হাজার ৪৪৪ জন, লেবাননে ৭৭৩, ইসরায়েলে ১৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬, বাহরাইনে ২, সৌদি আরবে ২, কুয়েতে ৬, ওমানে ৩, মার্কিন বাহিনী ১১ এবং ইরাকে ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরান সরকার বলছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৩ হাজার বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৩৬ হাজার ৫০০ আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানির দেওয়া তথ্য অনুসারে প্রায় ৪৩ হাজার বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৫০০ আবাসিক ইউনিট ছিল। শুধুমাত্র তেহরানে প্রায় ১০ হাজার ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি জরুরি ইউনিট, ৩২টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১২০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




