নির্বাচন প্রশ্নে ‘একমত’ বিএনপি ও হেফাজতে ইসলাম

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে একমত হয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি। এসময়ে নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে চিন্তা করবে হেফাজতে ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান। এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের লিয়াঁজো কমিটি। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা যেমন সংস্কার চাই, আমরা বিচার চাই-কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের বিষয়টি আমরা সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে চাই। ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন, জাতির সামনে অনেকবার বলেছেন। কিন্ত প্রায় সময় দেখা যাচ্ছে বা কিছুদিন পর পর- ডিসেম্বর থেকে জুনে, জুনে থেকে ডিসেম্বরে এই রকম একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকেও নির্বাচন বিলম্ব করারও বিভিন্ন রকম পাঁয়তারা আমরা লক্ষ্য করছি৷

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আমাদের জোরালো দাবি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি অবশ্যই- খুব দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবেন, যাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা যায়৷ সেই দাবির সঙ্গে উনারা (হেফাজতে ইসলাম) একমত হয়েছে। সেজন্য হেফাজতে ইসলাম এবং তার অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ পক্ষ থেকে তারা যথাযথ কর্মসূচি প্রণয়ন করবেন কি না- উনারা এটা চিন্তা করে দেখবেন৷

বিএনপি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য উনাদের (হেফাজতে ইসলাম) দাবি আছে, যে দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি এবং জনগণের সামনে প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেছি৷ সেই দাবি তারা আমাদের কাছে পুনরায় উত্থাপন করেছেন, আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক৷ সেজন্য প্রয়োজনে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়৷ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যদি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়, সেটা দেশের জনগণ মেনে নেবে৷

এপ্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রী, এমপি এবং দোসরদের বিরুদ্ধে, সেই মামলাগুলোর কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো পর্যন্ত আমাদের সামনে নেই৷ জাতি প্রত্যাশা নিয়ে উদ্বিগ্ন যে, মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। সেজন্য আমরা প্রস্তাব করছি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক, এর জনবল, তদন্ত টিম ও লজিস্টিক সাপোর্টসহ অন্যান্য সার্পোট বৃদ্ধি করা হোক। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা যায় কি না, সেটা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে৷ এটা আমরা প্রস্তাব করেছি। উনারা একমত।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বৈঠকে উনাদের (হেফাজতে ইসলাম) সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, হেফাজতে ইসলামের উপর কি হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়৷ ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে তাতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সঠিক সংখ্যাও এখন পর্যন্ত নিরূপণ করা হয় নাই। সেই শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে হেফাজত ইসলামের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উনারা সেই মামলার সুষ্ঠু বিচার চায়, দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। আমরা তার সঙ্গে একমত।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে চট্রগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একইভাবে আলেম সমাজের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, ২৪ জন আলেম এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছিলেন। হেফাজত ইসলামের পক্ষ থেকে সেই হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা সেই মামলার সুষ্ঠু বিচার চায়, দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। আমরা তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, জেলে ভরা হয়েছে এবং সীমাহীন নির্যাতন করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চান, এটা তাদের দাবি- আমরা একমত৷ আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জনাব, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে৷

এসময়ে হেফাজতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে তারা সংবিধানে আল্লাহ ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস পুন:স্থাপন করতে হবে- এ দাবিও জানিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমাদ, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুনির হুসাইন কাসেমী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top