বাচ্চা আছে, স্ত্রী সংসার করতে চায়, স্বামী চায় বিচ্ছেদ – আইন কী বলে

এ্যাডভোকেট আজম খান
আজকাল এই কেসটা খুব আসছে। স্ত্রী আদালতে মামলা করেছে সংসার করবে বলে, স্বামী বলছে আমি কোনোভাবেই রাখবো না।
এই অবস্থায় স্বামীর করণীয় কী? আর স্ত্রীর অধিকার কী? চলুন আইনটা সহজ ভাষায় জানি।
স্ত্রী যে মামলা করেছে, সেটা কী?
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত স্ত্রীর ২ টা মামলা করে –
১. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা (Restitution of Conjugal Rights) ২. ভরণপোষণের মামলা
অনেক সময় যৌতুক মামলাও দায়ের করেন। আদালত কিন্তু সহজে সংসার ভাঙতে দেয় না। আদালত সবসময় চায় সংসার টিকুক।
স্বামী যদি ছাড়তেই চায়, বৈধ পথ কী
স্বামী চাইলেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তালাক দিয়ে দিতে পারবে না। আইনি পথ একটাই – মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী তালাক দেয়া।
১. লিখিত তালাকের নোটিশ: কাজী অফিসে গিয়ে তালাকনামা রেজিস্ট্রি করতে হবে, এরপর ২ জায়গায় নোটিশ পাঠাতে হবে – স্ত্রীর ঠিকানায় এবং চেয়ারম্যান/মেয়রকে।
২. ৯০ দিনের ইদ্দত: নোটিশের ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে। এর আগে না।
৩. সালিশি বোর্ড ফেস করুন: চেয়ারম্যান আপনাদের ডাকবে। আপনি কেন রাখবেন না, তার উপযুক্ত কারণ দেখাতে হবে। স্ত্রী যদি সংসার করতে চায়, বোর্ড আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে।
মনে রাখবেন: আদালতে স্ত্রীর মামলা চলাকালীন তালাক দিলেও আপনাকে আদালতে জবাব দিতে হবে। লুকিয়ে তালাক দিলে পরে আপনি আরও বড় বিপদে পড়বেন।
এই অবস্থায় স্ত্রীর ৪ টা বড় অধিকার আছে, যা স্বামীকে দিতেই হবে –
১. দেনমোহরের অধিকার: বিয়ের কাবিনে যে দেনমোহর লেখা আছে, তা স্বামীকে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। মাফ নেই।
২. ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ: তালাকের পর ৩ মাস ১০ দিন স্ত্রীর থাকা-খাওয়ার সব খরচ স্বামী দেবে।
৩. বাচ্চার ভরণপোষণ: বাচ্চার বয়স ১ দিন হোক বা ১০ বছর, বাবা হিসেবে তার ভরণপোষণ, পড়াশোনা, চিকিৎসা খরচ ১৮ বছর পর্যন্ত আপনাকেই দিতে হবে।
৪. বাচ্চার জিম্মা (Custody):* আইন অনুযায়ী ছেলে ৭ বছর এবং মেয়ে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। এরপর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে বাচ্চা কার কাছে ভালো থাকবে।
আমার  পরামর্শ
একটা বাচ্চার কথা ভাবুন। আদালত, আইন সবকিছু বাচ্চার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রায় দেয়। রাগ নয়, আইনি পথে এবং সম্মানের সাথে আলাদা হোন, যদি আলাদা হতেই হয়। একটা ভুল সিদ্ধান্তে বাচ্চাটা সারাজীবন বাবা-মা হারা হয়ে যাবে। প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট ভিন্ন তাই একজন আইনজীবী সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না।
এ্যাডভোকেট আজম খান
বরিশাল জজ কোর্ট
(লেখাটি আইনজীবীর ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top