শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের সুফলভোগী সদস্যদের জন্য ৩ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিআরডিবি হলরুমে আয়োজিত এক সমাবেশে এই কর্মশালার সূচনা হয়। এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক, ইভটিজিং, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধ এবং ‘মব কালচার’ পরিহারসহ নানা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে নারী সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বরিশাল বিআরডিবির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হান্নান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্থাটির বরিশাল বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। পরিবার ও সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কোথাও এর আয়োজন দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।
মাদক ও নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে তছনছ করে দেয়। তরুণ প্রজন্মকে এর গ্রাস থেকে বাঁচাতে পারিবারিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি ইভটিজিং ও নারীর প্রতি যেকোনো হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে ওসি মাসুদ খান বলেন, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও এর অপব্যবহার যেন পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুর কেটে না দেয়। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু-কিশোররা যেন এতে আসক্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি আরো বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘মব কালচার’ সৃষ্টি করা যাবে না। অভিযোগের সত্যতা না যাচাই করে কাউকে লাঞ্ছিত বা বিচার করার অধিকার কারও নেই। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নারী সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সেশন পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে বিআরডিবির স্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশিক্ষক ও নারী সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।




