‘ইনশাআল্লাহ’ বলার জেরে বিতর্ক, পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কয়েকটি ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানোকে বদলি করা হয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের অভিযোগ দায়েরের পরদিনই সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে খড়গপুরের এএসপি পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

২০২১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা চলতি বছরের জুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি হুগলির সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুশরা বানোর একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিজের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে হবু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উৎসাহ দেন। ভিডিওর শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন।

ভিডিওতে এসব শব্দ ব্যবহারের আপত্তি জানিয়ে ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামের একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। সংগঠনটি বুশরার বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানায়।

সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করে, বুশরা ভিডিওটি ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিয়ে শুরু করেছেন, বক্তব্যের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেছেন এবং শেষে ‘জাজাকাল্লাহ’ ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’ বলেননি। সরকারি কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে বক্তব্যে এসব ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলে সংগঠনটি।

এই অভিযোগ দায়েরের একদিনের মধ্যেই বুশরা বানোকে বদলি করা হয়। তবে সরকারি বদলি আদেশে তার বদলির কারণ হিসেবে ওই ভিডিও বা সংগঠনটির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয় নি।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বুশরা বানোর বদলিকে ‘রুটিন প্রশাসনিক বদলি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া বুশরা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করেন। তিনি জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য এনইটি পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন। পরে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।

প্রকাশিত ওই ভিডিওতে নিজের সাফল্যের পেছনে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সিয়াল কোচিং একাডেমির ভূমিকার কথাও ভিডিওতে উল্লেখ করেন বুশরা। প্রতিষ্ঠানটি তাকে স্টাডি মেটেরিয়াল, লাইব্রেরি সুবিধা ও টেস্ট সিরিজ দিয়ে সহায়তা করেছিল বলে জানান তিনি।

২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম স্থান অর্জন করে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে সুযোগ পান বুশরা। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে সে সময় তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। ২০১৯ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৪তম স্থান অর্জন করেন এবং আইপিএস হিসেবে মনোনীত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top