তেল স্থাপনা, এয়ারপোর্টের পর এবার সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের হামলা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র হয়ে ওঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সময়ে লোহিত সাগর তীরবর্তী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে হুতিরা। পাশাপাশি সৌদি আরবেও হামলা অব্যাহত রেখেছে গোষ্ঠীটি।

সম্প্রতি তীব্রতা পাওয়া যুদ্ধে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এবার গোষ্ঠীটি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতেও।

এদিকে সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেকে দেশ ছেড়ে লোহিত সাগরের অপর পাড়ের দেশ জিবুতিতে পালিয়ে যাচ্ছেন।

হুতিদের দাবি, তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের শরুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, শারুরাহ ঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্য ছিল ‘অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র’, যেখান থেকে ইয়েমেন ও দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে হুতিদের দাবি।

তবে অভিযানটি কবে চালানো হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেনের সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় হুতিদের ছোড়া একটি গোলায় দুইজন আহত হয়েছেন। হামলার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘটনা ঘটে।

সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে হুতিদের ছোড়া গোলার আঘাতে দুইজন আহত হয়েছেন। এতে একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুতি ও রিয়াদের মদদপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলতি সপ্তাহে সংঘর্ষ বেড়েছে।

এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালায় হুতিরা। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করা হয়। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি।

ওই হামলায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ছিল জিজান শোধনাগার এবং নাজরান ও আভার বাল্ক প্ল্যান্ট। হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। কয়েকটি জ্বালানি কেন্দ্রে বড় ধরনের আগুনও লাগে। এতে এসব স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

এরও আগে, গত ২০ আগস্ট নাজরান বিমানবন্দর ও স্থানীয় আরামকোর একটি স্থাপনায় দুটি ড্রোন দিয়ে হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল হুতিরা।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। গত এক সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলেছে, ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। অনেক পরিবার রাতের বেলায় ঘর ছাড়ছে। তাদের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গাও নেই।

জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়েছে। পশ্চিম উপকূল ও তাইজ এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তাইজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার বা প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘর ছেড়েছেন।

সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়েও পড়েছে। জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শরণার্থী জিবুতিতে পৌঁছেছেন।

ইয়েমেনের ঠিক বিপরীতে আফ্রিকার শিং অঞ্চলে অবস্থিত জিবুতি। দেশটি লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পাশে অবস্থিত।

 

সূত্র : আলজাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top