চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে নির্মাণকাজ বন্ধ ও স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভোলা-২।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাজারের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় স্থানীয় ইব্রাহিম ও জুয়েল ওরফে ‘ভাঙ্গারি জুয়েল’ বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। পাউবোর নির্মিত বেড়িবাঁধ কেটে প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলেও এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
সংবাদ প্রকাশের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসাফউদ্দৌলার স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে ইব্রাহিম ও জুয়েলকে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, বাপাউবো, চরফ্যাশনের আওতাধীন উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প (১৯৬৬-৬৭)-এর আওতায় অধিগ্রহণকৃত জমি হাজারীগঞ্জ মৌজার চেয়ারম্যান বাজার সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ২১ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়িত্ব রক্ষার স্বার্থে এর ওপর অথবা পার্শ্বঢালে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি ঘরবাড়ি, স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবেন না।
এ অবস্থায় উল্লেখিত স্থানে নির্মাণাধীন স্থাপনার কাজ বন্ধ করে সাত দিনের মধ্যে তা অপসারণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসাফউদ্দৌলা বলেন, বিষয়টি শুনে দখলকারী ইব্রাহিম ও জুয়েলের বরাবর কাজ বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের ওপর এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে সরকারি জমি ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




