পিরোজপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক পুলিশ হেফাজতে

‎জাকির ফরাজী, পিরোজপুর

পিরোজপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খামকাটা এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাফিজুল (২০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে হাফিজুল শিশুটিকে খামকাটা আবাসনের পাশে একটি পরিত্যক্ত অফিসকক্ষে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানা-নানীর সঙ্গে বসবাস করে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

‎শিশুটির নানা মো. কামাল হাওলাদার জানান, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটির গোপনাঙ্গে ব্যথা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি হাফিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

‎খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্ত হাফিজুলকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

‎পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার বলেন, শনিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশ পাঁচ বছরের একটি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশুটির অভিভাবকেরা ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে শিশুটিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা গাইনি বিভাগের চিকিৎসকেরা করবেন।

‎অভিযুক্ত হাফিজুল পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর-ভাইজোড়া এলাকার মৃত ওয়ারেছ মল্লিক ও হাজেরা বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক এবং মায়ের সঙ্গে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খামকাটা এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।

‎পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে একটি শিশুর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

‎পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও সত্যতা যাচাইয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top