৫ শিক্ষার্থীর জন্য ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে। তবে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন। এই পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য আছেন ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

প্রতিমাসে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে সরকার আড়াই লাখ টাকা বেতন দিচ্ছে। ৫ শিক্ষার্থীর পেছনে মাসে এতো টাকা খরচের বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ১ জন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ২ শিক্ষার্থী রয়েছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে ৭ জন। তাছাড়া একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে দেখা যায়। আবার কয়েক শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলেছেন, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা কমেনি। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top