ইসলামী ব্যাংকে ফিরলেন ২০০০ গ্রাহক, বাড়ল টাকার পরিমাণ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকে আস্থা বাড়তে শুরু করেছে। এতে টাকা উত্তলনের হার কমেছে। গত ১ জুনে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যারা হিসাব ভেঙে টাকা তুলে নিয়েছেন কিংবা অন্য ব্যাংকে তহবিল স্থানান্তর করেছেন, তাদের অনেকেই ব্যাংকে ফিরে আসা শুরু করেছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের পর এমন চিত্র দেখা গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) ১ হাজার ৪৪২টি এবং গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) ৫৫২টি হিসাব পুনরায় চালু হয়েছে। এসব হিসাবে ইসলামী ব্যাংকে ফেরত আসা টাকার পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নগদ তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা গত ১ জুন ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে ১৭ দিনে কমছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

যদিও গত ১ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন গ্রাহকরা। গত তিন দিনে জমা ও উত্তোলনের হিসাবে ১২ হাজার কোটি টাকার সামান্য নিচে নেমেছে। মূলত গ্রাহকের স্বস্তি ও আস্থা বাড়ায় আমানত ভাঙা ও স্থানান্তর করা হিসাব পুনরায় চালু করা শুরু হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেন, আগের চেয়ে আমানত তুলে নেওয়া কমিয়েছেন গ্রাহক। গতকাল (বুধবার) এক দিনে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহক হিসাব ভাঙা টাকা আগের হিসাবে ফের জমা দিয়েছেন। তার আগের দিনও কয়েক শ গ্রাহক ফিরে এসেছেন। আর যারা অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করেছেন, তাদের অনেকেই ইসলামী ব্যাংকে টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

তবে প্রক্রিয়ার কারণে তা দেরি হচ্ছে। অস্থির পরিস্থিতিতে টাকা তুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এসব গ্রাহক ফের আগের মতো হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ক্ষতি বা চার্জ বিবেচনা করা হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংকের এক বিশেষ নোটিশে জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে যেসব গ্রাহক বিভিন্ন সঞ্চয় ও আমানত হিসাব মেয়াদপূর্তির আগেই (প্রি-ম্যাচিউর) ভেঙেছেন, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে আরোপিত সব ধরনের খরচ ও আর্থিক ক্ষতি মওকুফ করবে ব্যাংকটি।

এদিকে বুধবার ইসলামী ব্যাংককে আরও এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে গত চার দিনে ব্যাংকটি মোট ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার ব্যাংকটিকে ঋণ দেয় হয় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সোমবার ২ হাজার ৫০০ কোটি ও রোববার ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। সব মিলে ঋণ দাঁড়াল ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাক। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার নগদ সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানায়। তবে পরে সন্ধ্যায় আবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, গভর্নর নয়, ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের সঙ্গে বঠৈক করেছেন। বৈঠকে সচেতন গ্রাহক ফোরামে সাত দফা দাবি জানায়।

দাবিগুলো হলো—

১. অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন;

২. ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া;

৩. বিদায়ী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা;

৪. ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

৫. বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা ও অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধের ব্যবস্থা করা;

৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরা, তাদের পরিবার ও সুবিধাভোগীদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালক পর্ষদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা;

৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top