ভারতে একসঙ্গে ১৫ মসজিদ সিলগালা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ভারতের একটি রাজ্যে একসঙ্গে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর অঞ্চলে কথিত জমি দখল ও ধর্মীয় অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

শুক্রবার (৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠনের (এপিআইওয়াইও) ক্রমাগত চাপের কারণেই মূলত এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে কথিত অবৈধ জমি দখল ও অনুমতি ছাড়া গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে।

নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য সংগঠনটি এর আগে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট বা বনধ পালন করেছিল। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের সব দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়া না হলে সামনে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার জেরে অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং আদিবাসীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, অরক্ষিত সীমান্ত একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এখানে সবসময় কড়া নজরদারি রাখা প্রয়োজন।

গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর ডাকা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে মূলত এই আলোচনার সূত্রপাত হয়। বিভিন্ন ছাত্র ও আদিবাসী সংগঠন, সুশীল সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সেখানে আদিবাসীদের অধিকার এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন রোধ ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি শুধু অরুণাচল প্রদেশের একার সমস্যা নয়; বরং এটি বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তারই একটি অংশ।

এরই মধ্যে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে আইএলপি ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি আলাদা বিভাগ গঠনের বিষয়টিও রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই বিভাগ নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান নিয়মগুলো আরও ভালোভাবে বাস্তবায়ন করবে। আইনের মধ্যে থেকেই অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসী পরিচয়, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষা করাকে কর্তৃপক্ষ তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মনে করছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর এক বৈঠকে বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বৈঠকের পর সরকার জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত স্থাপনাগুলো শনাক্ত করার নির্দেশ দেয়। পরে এক সরকারি জরিপে রাজধানী অঞ্চলে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়।

পি ডি সোনার ভাষ্যমতে, জেলা কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত ১২টি স্থাপনা সিল বা খালি করার আগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। বাকি তিনটি মামলা গত ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে আরেকটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এর পরে সেই স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, যেসব উদ্বেগের কারণে বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেগুলোর আইনসম্মত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। জনস্বার্থে সংগঠনটি পরবর্তী যে কোনো বন্ধের ডাক পুনর্বিবেচনা করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top