বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
এদিকে ইউপি সদস্যদের প্রতি সাধারণ জেলেদের মধ্যে রয়েছে নানা অভিযোগ। সম্প্রতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লার অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ আকন ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন বলে স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে অনাস্থা প্রস্তাবের একটি কপি হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে অফিস খোলার পরই আবেদনের বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের চালের পরিবহন বাবদ সরকারি যে খরচ তাও চেয়ারম্যানের কাছে। সে আমাদের সম্মানি ভাতা থেকে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা করে কেটে নিয়ে চালের পরিবহন খরচ নিত। চেয়ারম্যান প্রতি মেম্বারের কাছ থেকে ১০টি করে নামের বরাদ্দ নিয়ে নিত।
মনির দফাদার বলেন, ‘আমি ১০০ থেকে দেড় শ টাকা করে নিয়েছি। জেলেদের চালের জন্য যে টাকা নিয়েছি, সে টাকা ইউপি সচিবের কাছে জমা দিয়েছি। এ জন্যই অনাস্থা দিয়েছি।’
চরকাজল ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে মনির মেম্বারসহ কোনো মেম্বারই জেলেদের কাছ থেকে নেওয়া কোনো টাকা জমা দেননি।’
এ বিষয়ে চরকাজল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে বর্তমান চেয়ারম্যান জেলেদের চালে মেম্বারদের মাধ্যমে ১৫০ টাকা করে খরচার টাকার কথা বলে টাকা উঠিয়েছেন। এত টাকা তো পরিবহন খরচ লাগে না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দিয়েছিলাম। বিভিন্ন সময় মেম্বারদের সম্মানি ভাতা থেকেও টাকা কেটে নিছেন। এসব বিষয় নিয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। যা দেখার প্রশাসন দেখবে।’
এ বিষয়ে চরকাজল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মতো আমি মাস্টার রোলের মাধ্যমেই চাল বিতরণ করেছি। চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা অফিস নির্দেশ অমান্য করে টোকেনের মাধ্যমে চাল বিতরণ করতে চেয়েছেন। যা আমি করিনি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মনির দফাদার আর রিকোজ হাওলাদার কোনো আইন কানুন মানতে চান না। তারা তাদের ইচ্ছেমতো চাল বিতরণ করতে চেয়েছেন। পরে ওই মেম্বাররা সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদের চাল আত্মসাতের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যানের যোগসাজশে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।’
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই ইউপির সদস্যদের একটি অনাস্থার আবেদন অফিসে জমা দিয়েছে। গত রবিবার ডিসি অফিসে মিটিং থাকায় দেখতে পারিনি। বন্ধের পর অফিস খুললে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কালের কণ্ঠ




