বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার জেলার বিতর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ভোজশালা-কামাল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে মন্দির ঘোষণা করেছেন। আজ শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক তথ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, সংরক্ষিত এই স্থাপনাটি দেবী সরস্বতীর মন্দির।
বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ ২০০৩ সালের এএসআই নির্দেশনা বাতিল করে দেয়, যার মাধ্যমে সেখানে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মুসলিমদের।
আদালত বলেছেন, ‘২০০৩ সালের এএসআই নির্দেশনা, যা হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করেছিল এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে নামাজের অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল করা হলো।’
আদালত আরও বলেছেন, চাইলে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন মুসলিমরা।
সংবাদমাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী হাইকোর্ট বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক ও সংরক্ষিত এই স্থানটি দেবী সরস্বতীর মন্দির। ভোজশালা মন্দির কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই সিদ্ধান্ত নেবে। ১৯৫৮ সালের আইনের অধীনে সম্পত্তিটির পূর্ণ ব্যবস্থাপনা থাকবে এএসআইয়ের কাছেই।’
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে হিন্দু পক্ষের আইনজীবী শিরীষ দুবে বললেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভোজশালা হলো রাজা ভোজ নির্মিত মা সরস্বতীর মন্দির। আদালত মুসলিম পক্ষের আবেদন খারিজ করেছেন। হিন্দু পক্ষের উভয় আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের দাবি পূরণ হয়েছে। বহু মানুষ তাদের যৌবন এই আন্দোলনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। অনেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ত্যাগ করেছেন। এই আন্দোলনে তিনজন শহীদ হয়েছেন এবং হাজারো মা, বোন ও অন্যরা কারাবাসের কষ্ট সহ্য করেছেন। আমি মনে করি আজকের এই ফলাফল তাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের ফল।’
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আশহার ওয়ারসি বললেন, ‘আদালত এখন যে স্থানকে আগে মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেটিকে মন্দির ঘোষণা করেছেন। আমাদের বলা হয়েছে, অন্যত্র জমি দেওয়া হবে। আমরা পুরো রায় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করব। যদি আমাদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব।’




