বর্গাচাষিদের ৪০০ মণ ধান মওকুফ করে দিলেন দুই ভাই

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

অনেকেই পাওনাদারদের কাছ থেকে এক টাকাও কম নিতে রাজি হন না। পাওনা টাকা বা অর্থ আদায় করতে কত কিছু করেন। কিন্তু শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষিদের ৪০০ মণ ধান মওকুফ করে দিয়েছেন দুই ভাই।

 

মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার বাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের দুই ভাই। তারা হলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক এম এ কাদির ও তার ছোট ভাই জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মতিন।

 

জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পিংলার হাওরের যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম এ কাদির ও তার ছোট ভাই জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মতিনের ১০০ বিঘা জমি বর্গাচাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

 

বর্গাচাষি কৃষকরা ১০০ প্রতি বিঘায় চার মণ করে ৪০০ মণ ধান দেন। কিন্তু এই অতিবৃষ্টিতে হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের বর্গা মওকুফ করে দেন দুই ভাই।

 

চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে পিংলা হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষিদের নিয়ে গতকাল শনিবার (৯ মে) বিকেলে নিজ বাড়িতে এক মতবিনিময় সভা করেন এম এ মতিন। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম এ কাদির। তিনি বলেন, পিংলার হাওরে একশ কেদার (বিঘা) বোরো জমি এবার কেদার প্রতি চার মণ ধান চুক্তিতে ২৯ জন কৃষককে বর্গা দিয়েছিলাম। জলাবদ্ধতার কারণে এবার কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব ফসল তুলতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। কৃষকের কষ্টের কথা চিন্তা করে ৪০০ মণ ধান মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি, যাতে করে অন্য জমির মালিকরা বর্গাচাষিদের ওপর সদয় হন।

 

বর্গাচাষি সৈয়দ মিয়া বলেন, এমন সহানুভূতিশীল উদ্যোগ আমাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা। এতে আমাদের অনেক উপকার হবে। এমন মহতি উদ্যোগে তারা কৃতজ্ঞ।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, এমন মহতি উদ্যোগ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক, এমনটা প্রত্যাশা। পিংলার হাওরে ৪০০ মণ ধান মওকুফ করে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, দুই ভাইয়ের এমন মহতি উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলার অন্যান্য হাওরের জমির মালিকারা যদি এমনভাবে কৃষকের পাশে দাঁড়ান, তাহলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top