বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, ‘সেখানের পরিস্থিতি এমন ছিল, আমি বর্ণনা করতে পারব না। আমি আমার চোখের সামনে দেখেছি, টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত একজনকে জবাই দিতে। আমি নিজে সাক্ষী।’
মঙ্গলবার (৫ মে) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, আমার সঙ্গে থাকা ছোট ভাই মুখলেস অজ্ঞান হয়ে রাস্তার মধ্যে পড়ে যায়। তাকে ধরে নিয়ে মোহামেডান ক্লাবের পাশে আমাদের এক আত্মীয়ের দোকানে আশ্রয় নেই। এরপর ফজরের আগে সেখান থেকে এক সেনাবাহিনীর কর্নেলের সহায়তায় বের হই।
তিনি বলেন, বের হয়ে দেখি ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রাক এবং ওয়াসার পানির গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করছে। ট্রাকের মধ্যে কী আছে আমি সেটা দেখতে পাইনি। আমি শুনেছি সেখান থেকে রক্তাক্ত লাশ ট্রাকে করে ডাম্পিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলো মেশিনে গুঁড়িয়ে দিয়ে ময়লার সঙ্গে ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনার প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি উল্লেখ করে অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, ‘আসলেই কতজন নিহত হয়েছেন, কারা এতে জড়িত ছিল। এসব প্রশ্নের এখনো সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। এত বছর পরও এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া জরুরি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়নি। এটা কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটা জাতির দায়। সত্য উদঘাটন করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
সেদিনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে ভিডিও ফুটেজ থাকতে পারে বলে উপাচার্য মনে করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান, যাদের কাছে তথ্য বা প্রমাণ আছে, তা প্রকাশ্যে আনার জন্য।
তিনি বলেন, ‘অনেকেই তখন ভয়ের কারণে মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু এখন সময় এসেছে সত্য সামনে আনার। শাপলা চত্বরের ঘটনার সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।’
সেমিনারে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা, বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এশিয়া পোস্ট




