আগৈলঝাড়ায় রডের পরিবর্তে বাঁশ, সেতু ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রশাসনের

শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সেতুর ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সেতুটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর নির্মিত সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, গত মঙ্গলবার ওই সেতুর ঢালাইয়ের সময় সেতুর উত্তরের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সংযুক্ত করে ঢালাই দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক সাংবাদিকদের জানান, তিনি সামাজিক মাধ্যমে ওই সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সংবাদ জানতে পারেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শনে পাঠান। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে অবহিত করেছেন।

ইউএনওর ভাষ্য, সেতুটির স্ট্রাকচার আগের অর্থবছরে নির্মিত হলেও এ বছর ঢালাইয়ের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী তাঁকে জানিয়েছেন সেতুর ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের কারণে ঢালাই যথেষ্ট মজবুত হয়নি। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে সেতুটি আবার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সেতুটির ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থের সেতুর ঢালাই দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে ৫ ইঞ্চি। ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন সাড়ে ৩ ইঞ্চি। সেতুর দৈর্ঘ্যে ও ইঞ্চি ও প্রস্থে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেতুতে এক ফুট পরপর রড দেওয়া হয়। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার ৫ পিস রড এনে এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করেন। এমনকি ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম পড়ায় স্থানীয়দের মাধ্যমে কয়েক ব্যাগ সিমেন্ট জোগাড় করে কাজ শেষ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো, হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, খালটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা সেতুর ঢালাই দিয়েছেন ৪৫ ফুট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top