বরগুনায় তিন শিক্ষকের মারামারি

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরগুনায় এক শিক্ষক দম্পতির অপর এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা করছেন নানা নেতিবাচক মন্তব্য। তাদের নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন শিক্ষক নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা রাহিমা বেগম মিলে পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. তাজেনুরকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা নানা বিরূপ মন্তব্য করেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও তার শ্যালক মিজানুর রহমান মানিক বরগুনা পৌর শহরের হাচন মোল্লা সড়কে যৌথভাবে ১২ শতক জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেন। তাদের মধ্যে ভবনের প্রবেশপথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। আপোষ বণ্টন দলিল রেজিস্ট্রি করে ভবন নির্মাণ করার পর এখন চলাচলের পথ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ বিরোধ নিরসনে সালিশও চলমান রয়েছে।

 

এরই মধ্যে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে শ্যালক মানিক ভবনের তার অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তার দুলাভাই শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বাধা দেন। একপর্যায়ে মানিক ভবনের ভেতরে গেলে জাহাঙ্গীর গেটে তালা লাগিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

 

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন মানিকের স্ত্রী তাজেনুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী রাহিমা বেগম ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

 

এ বিষয়ে শিক্ষিকা তাজেনুরের স্বামী মো. মিজানুর রহমান মানিক বলেন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে ভবন নির্মাণ করি। আমাদের অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তিনি ও তার স্ত্রী বাধা দেন। একপর্যায়ে আমাকে ভবনের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রেখে আমার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তাজেনুর প্রথমে আমাকে থাপ্পড় দেন। পরে তিনি আমার স্ত্রীর চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। আমি তাদের মারামারি থামাতে গেলে তাজেনুরকে চুল ধরে সরিয়ে দিই। তবে ওই মহিলার গায়ে হাত দেওয়া আমার উচিত হয়নি।’

 

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের মারামারির ঘটনা দেখে আমি বিস্মিত। আমরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারিনি বলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটি নিন্দনীয় সামাজিক অবক্ষয়। এ ঘটনায় আমরা শিক্ষক সমাজ লজ্জিত। প্রশাসনের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

 

বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিহাদ হোসেন বলেন, ভিডিওটি দেখেছি, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি যেহেতু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সে ক্ষেত্রে আমাদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত।

 

বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শিরিন আক্তার বলেন, এটি তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনা হলেও একজন শিক্ষক হিসেবে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, শিক্ষকদের মারামারির ঘটনায় একটি পক্ষ থানায় মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top