৪৭ আসন ভাগ হবে কীভাবে জানালেন ১০ দলীয় জোটের নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য সংরক্ষিত ৪৭টি আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব লিয়াজোঁ কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ৪৭টি আসন নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে প্রস্তাব দেবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে দলটির শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সবাই উপস্থিত ছিলেন। এতে নারী বিভাগের দায়িত্বশীল সদস্য এবং দলের কয়েকজন বিশেষজ্ঞও অংশ নেন। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। কোন জেলায় কখন সফর করা হবে, সে বিষয়গুলোও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলের ইশতেহার আজই চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে জাতির সামনে তা উপস্থাপন করা হবে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। সে কারণেই আজকের বৈঠকে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই জানানো হবে।

এদিকে শরিয়া আইন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি দেখেন না বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। একই দিন বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইসলামী আন্দোলন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে তিনটি কারণ তুলে ধরেছে, তার একটি ছিল—জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না। এ অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ হলো, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। এক দফায় বা হঠাৎ করে একদিনেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়—এ কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। এতে কোনো অসঙ্গতি নেই।

ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ১০ দলের সমঝোতার ভিত্তিতেই বণ্টন হবে বলেও জানান তিনি। মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না থাকায় একই প্রক্রিয়ায় সমঝোতার মাধ্যমে আসন বণ্টন করা হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হবেন, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব আসনে সমঝোতা হবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থী ছাড়া অন্যরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এ সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে। ১৯ জানুয়ারির আগে ভিন্ন কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলেও জানান তিনি। শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই তারা ধরে নিয়েছেন যে দলটি ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এই বিবেচনায় ১০ দলীয় জোট তাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top