জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলন: ভোট-জরিপে কার অতীত কেমন?

ডেস্ক রিপোর্ট

জামায়াতে ইসলামীর আসন বণ্টন অবস্থানকে ‘উদারতা’ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘একগুঁয়েমি ও অহংকার’ বলে অভিহিত করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট হাসান নোমান।

আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসান নোমান লিখেছেন, যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন জামায়াত কেন একাই ১৯০টি আসন নিতে চায় এবং বাকি সব দলকে মাত্র ১১০টি আসন দিতে চায়, এবং এটিকে তারা ইনসাফের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।

হাসান নোমান তার পোস্টে শেখ হাসিনার শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই সময়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে শহীদ করা হয়েছে, অন্যদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা তখন ‘মায়ের কোলে ছিলেন।’

তিনি দাবি করেন, ‘জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু শিক্ষার্থী ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে, যেখানে ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশি-বিদেশি যত জরিপ হয়েছে, সেগুলোতে জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী দেখা গেছে, বিপরীতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল। গত দেড় বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জামায়াতের আমীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে শেখ হাসিনা যদি আরেকটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারতেন, তাহলে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে প্রধান বিরোধী দল বানানো হতে পারত। তিনি আরও বলেন, হাসিনার ‘পাতানো নির্বাচনে’ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ হাজার হাজার ভোট পেয়েছিল।

হাসান নোমান তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘জামায়াতের রুট লেভেলের জনশক্তির আপত্তি এবং সচেতন মহলের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও জামায়াত ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে চেয়েছে, যেখানে অনেকেই মনে করেন তাদের ১৫টির বেশি আসন পাওয়া উচিত নয়। তিনি এটিকে জামায়াতের উদারতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এরপরও যদি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী সমঝোতায় না আসে, তবে সেটি তাদের অহংকার হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তিনি আরও মন্তব্য করে লেখেন, মাহফিল, জনসভায় উপস্থিতি এবং গত ১৭ বছরের নির্বাচনী অবস্থান এই সবকিছু মিলিয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান আগামী নির্বাচনে একই রকম হবে না।

স্ট্যাটাসের শেষে হাসান নোমান লিখেছেন, ‘আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।’

ডেইলি ক্যাম্পাস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top