মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আমন ক্ষেতে পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কোন কোন স্থানে কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যাচ্ছে না। উপজেলায় প্রায় ২০-২৫ হেক্টর জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছ রক্ষায় আলোর ফাঁদ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলা
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে আমন মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ও ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে উফসী জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। ফসল রক্ষায় এবছর আমন ক্ষেতে বসানো হচ্ছে ৩০টি আলোর ফাঁদ এবং আরো আলোর ফাঁদের কাজ চলমান আছে। আর আলোর ফাঁদের পাশাপাশি ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতিতে ( গাছের ডাল পোঁতা) ব্যবহার করছেন কৃষকরা।
এসব ব্যবহারে করে পোকা দমন করার কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যায় জমির বীজতলা। এতে সংকট দেখা দেয় আমন বীজের। বিভিন্ন স্থান থেকে উচ্চমূল্যে আমনের বীচ ক্রয় করে রোপন করতে হয়েছে। এরপর আবার মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা নিয়ে নতুন বিপদ! একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত আমন চাষিরা। আমন ক্ষেতে কয়েকবার স্প্রে করেও পোকা দমন হচ্ছে না। উন্নত মানের কীটনাশক ব্যবহার করেও ক্ষেতের চারা উন্নতি হচ্ছে বলে জানান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ হাসান বলেন, অতিবৃষ্টিতে ডুবে বীজতলা ও ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যদিও এ সময়ে ধানগাছে মাজরা পোকার আবির্ভাব ঘটে। কৃষি বিভাগ থেকে পোকা দমনে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের আমন ধানক্ষেতে প্রতিবছরের মতো কৃষি বিভাগ থেকে ‘আলোর ফাঁদ’ স্থাপন করা হয়েছে। আলোর ফাঁদ বসিয়ে ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় পোকা বেশি দেখা যায় সেসব যায়গায় আলোক ফাঁদ বেশি বসানো হয়।
এই কর্মকর্তা জানান, জমিতে রাতের বেলায় একটি স্থানে বালতির উপর অংশে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে দিলে ক্ষেতের ভেতরে থাকা ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন ধরণের পোকা-মাকড় উড়ে এসে জড়ো হয়ে বালতির পানিতে পড়ছে। পরে পানিতে আটকা পড়া ক্ষতিকর পোকা মাকড়গুলোকে কৃষকরা মেরে ফেলেন। এভাবে আমন ধান ক্ষেত পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা কোন ধরনের খরচ ছাড়াই সহজে ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে পারে।
পোকা আক্রমণ ব্যপারে তিনি আরো বলেন, ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে পোকা আক্রমণ বেড়েছে। তাই ফসল রক্ষায় পোকা দমনে কাজ করতে হবে। পোকার আক্রমণ শুরু হলেই ক্ষেতে গাছের ডাল পুঁতে দিতে হবে যাতে পাখি বসতে পারে এবং আলোর ফাঁদ স্থাপন ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।




