বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বৈদ্যুতিক পাখার শীতলতায় ‘রাজাবাহাদুরের’ পরিচর্যায় সর্বক্ষণ নিয়োজিত থাকেন দুই যুবক। তেজে ভরা বিশাল আকৃতির ষাঁড়টির অগোছালো কর্দমাক্ত পরিবেশ মোটেই পছন্দ নয়। তাই কোরবানির হাটে তোলার আগ পর্যন্ত পরিপাটি পরিবেশে রাখতে প্রতিনিয়ত ঘাম ঝড়াচ্ছেন খামারি নিজেও।
শুধু তাই নয়, মাঠে চরালেই অন্য সব গবাদিপশু তারিয়ে একাই রাজত্ব কায়েম করতে অভস্ত্য প্রায় ১৬ মন ওজনের এই ষাঁড়। তাই সখ করেই তার নাম দেওয়া হয়েছে রাজাবাহাদুর। আর এবার ঈদের বাজারে তার দাম হাঁকানো হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউপির কুমিরমারা গ্রামের আদর্শ খামারি কামাল গাজীর গোয়ালে শাহিওয়াল প্রজাতির একটি বাছুরের জন্ম হয়। কিন্তু তার বেড়ে ওঠার এক বছর পর খোলা মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিলেই বাঁধে বিপত্তি।
তার ক্ষিপ্রতা আর শক্তির দাপটে অন্য সব গবাদিপশু ভয়ে তটস্থ হয়ে মাঠ ছেড়ে পালায়। ফলে তার বিশাল দেহের গঠন আর সাড়ে ৪ ফুট উচ্চতা পশু প্রেমিদের কাছে ভিন্নতায় পরিচিতি পাওয়ার কারণে নাম দেয়া হয় রাজাবাহাদুর নামে। সম্প্রতি এই ষাঁড়টি ঈদ বাজারে বিক্রির কথা শুনে তাকে দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতাসহ উৎসুক মানুষ। আবার অনেকে লম্বা উঁচু চুটের ছবি তুলে পোষ্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বাহাদুরকে দেখতে আশা পাখিমারার বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব শানু হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, এই গরু কামাল গাজী বাড়ির খাবার খাইয়ে এতোবড় করেছে শুনে একনজর দেখতে এসেছি। কিন্তু ঘাস, ভূষি দিয়ে গরু এতোটা বড় হয় আমি আগে আমার বয়সে দেখনি।
গরু দেখতে আসা সজীব গাজী কালবেলাকে বলেন, কোরবানির হাটে এ পর্যন্ত অনেক গরু দেখেছি। কিন্তু এই ষাঁড়টির মতো সুন্দর দেহের গঠন আর চোখে পড়েনি। এটি এখন দেশীয় গরুর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুর তালিকায় রয়েছে বলা যায়।
খামার মালিক কামাল গাজী কালবেলাকে জানান, আমার গোয়ালেই শাহী ওয়াল গাভীন থেকে এটি তৈরি হয়েছে। অন্যসব গরুর মধ্যে ওকে ছোটবেলা থেকেই একটু আলাদা মনে হয়েছে। আর মাঠে ছাড়লে কোনো গরু ছাগল মহিষ ও টিকতে দেয়না। সব তাড়িয়ে দিয়ে ফাকা মাঠে একা থাকতো। বহু গরু ছাগল আহত করেছে। রাজাবাহাদুর নামেই ওকে সবাই চেনে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন ওকে গম, ভুট্টা, ভূষি ও সবুজ ঘাসসহ অনেক খাবার দিতে হয়। কোনো ধরনের গোবর পায়ে লাগলে সেখানে এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় না। সব সময় ওর জন্য দুজন নিয়োজিত থাকে। আমি ওকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। লতা-পাতা আর ঘাস ভুষি খাইয়েছি। এখন রাজার প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও সারে ৪ ফুট উচ্চতা হয়েছে। আর ওজন হয়েছে ৬০০ কেজিরও বেশি।
কামাল গাজী জানান, এবার কোরবানীর হাটে গরুটিকে বিক্রি করবেন। তাই দাম হাঁকিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। যেহেতু প্রাকৃতিক খাবারে অভ্যস্ত এ ষাঁড়টি, তাই বিক্রি না হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই তার। গোয়ালেই আবার যত্নে রেখে লালন পালন করবেন তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ কালবেলাকে বলেন, এ বছর এই উপজেলায় কোরবানির হাটে বিক্রির লক্ষ্যে যেসব গরু, ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে তার মধ্যে নীলগঞ্জের কৃষক কামালের রাজাবাহাদুর অন্যতম। কারণ তিনি হরমোন পরিবর্তন হয় এমন কোনো ভ্যাকসিন এই ষাঁড়টির জন্য ব্যবহার করেননি। তাকে দেখে অন্য কৃষকদেরও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। কারণ প্রাকৃতিক উপায়ে মাংসের জন্য প্রস্তুত করা হলে পশুর মৃত্যু ঝুঁকি থাকে না। আশা করছি তিনি ষাঁড়টি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। কালবেলা




