মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুর ১ টায় দক্ষিণ ইউনিয়ন এ গিয়ে দেখা যায় জেলেরা ভিজিএফ চাল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। ফজলুল হক লিটন হায়দার (ইউপি সদস্য) দাড়িয়ে থেকে চার বালতি করে লোক দিয়ে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে জানতে পারা যায় আজ লিটন মেম্বারের ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হচ্ছে না। তিনি নিজেকে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করেন। তিনি দাড়িয়ে থেকে অন্য ওয়ার্ডের জেলেদের চাল দিচ্ছেন। প্রতি কার্ডের চাল ৮০ কেজি করে জেলেদের দেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৮০ কেজির পরিবর্তে ৪০ কেজি করে দেওয়ার কথা।
লিটন মেম্বার বলেন, বালতি মেপে চাল দেওয়া হয়। প্রতি বালতিতে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চার বালতিতে ৩৮ কেজি চাল দিচ্ছি।
কিন্তু কয়েক জনের চাল মেপে দেখা যায় ৩২-৩৪ কেজির বেশি হচ্ছে না। স্থানীয় জেলেরা আরও জানান, ফজলুল হক লিটন হায়দার যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন অনেক বছর ধরে।
এই বিষয়ে বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ৭নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফজলুল হক লিটন হায়দারকে চাল ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, চাল কম দেই না। চাল ওজন দেওয়া মিটারের ভিডিও এবং জনগণের ভিডিও দেখালে তিনি সাংবাদিকদের সাথে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিকদেরকে হুমকি-ধামকি দেন। পরক্ষণেই তিনি বলেন, আমি চাল ৪০ কেজি করে দেই; কিন্তু মাপের সময় ১ কেজি কম হতে পারে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এর বিষয়টি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন প্রশাসককে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান , চাল ৩৬ কেজি করে দেওয়ার কথা। কারণ প্রতি বস্তা চালে ঘাটতি হয়। কেয়ারিং খরচ, লেভার খরচ ইত্যাদি আছে। এই কারণে চাল ৩৬ কেজি করে দেই; কিন্তু ৩৬ কেজির কম হওয়ার কথা নয়।
তিনি আরও জানান ফজলুল হক লিটন মেম্বার ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য। আজ তার ওয়ার্ডের চাল দিচ্ছে না কিন্তু তিনি সবাইকে বলে সে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পেয়েছে। এমনকি তিনি নাগরিকত্ব সনদেও সই করেছে অনেক বার।




