বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
আগুন বড় আকার না নিলেও ধোঁয়া আর আতঙ্কে মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো হাসপাতালের চিত্র। রোগী, স্বজন, নার্স, চিকিৎসকরা যে যেভাবে পেরেছেন, রোগীদের নিয়ে দৌড়ে নেমেছেন নিচে। তাড়াহুড়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার সময় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে রোগীদের জন্য রাখা বিছানার ফোম, চাদর ও বালিশসহ কিছু মালামাল ছিল। সেখান থেকেই ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়।
কাজী আতাউর রহমানের স্বজনদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত অক্সিজেনের প্রয়োজন হতো। আগুন লাগার সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হয়। তার ছেলে বউয়ের ভাষায়, ওনাকে নিচে নামানোর পরই আমরা অক্সিজেন খুঁজতে থাকি। হাসপাতালে না পেয়ে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের কাছে চাই, কিন্তু তারা দিতে পারেনি। কিছুক্ষণ পরই উনি মারা যান।
অন্যদিকে আবুল হোসেন কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার ছেলে জানান, আগুনের খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন বাবাকে মৃত অবস্থায়।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, এই দুই রোগীর অবস্থাই আগে থেকে আশঙ্কাজনক ছিল। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি স্থানে আগুন লাগে। দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত কাজ করায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী বলেন, ধোঁয়া বেশি হওয়ায় আগুন নেভাতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিড়ি-সিগারেট বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ওই ভবনের মাত্র দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে পুরোনো ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ




