বরিশাল থেকে মনোনয়ন চান দুই ডজন নেত্রী, আছেন এমপি পরিবারের সদস্যরাও

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। আন্দোলনে সক্রিয় ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলের নেত্রীরা সংগ্রহ করছেন মনোনয়ন ফরম।

 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অন্তত ৬০০ মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে আলোচনায় আছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত দুই ডজন নেত্রী। দৌড়ে শামিল হয়েছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরাও।

 

বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ১৮ জন। নিয়মানুযায়ী প্রতি ছয় আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসনে একজন নারী সংসদ সদস্য পাবে সরকারি দল। সে হিসেবে এই বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হবেন তিনজন। এই তিন আসনের জন্য অন্তত দুই ডজন নেত্রী সক্রিয় হয়েছেন।

বরিশাল
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল জেলায় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেত্রী ডা. জাহানারা লাইজু। তার বাবা মোশাররফ হোসেন মঙ্গু বিএনপির হয়ে বরিশাল-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

 

মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে আছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। আরও আছেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান ও মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি।

 

ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলে নিজের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আফরোজা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘আমি ৯ বার জেল খেটেছি। ৫৫টি মামলা ছিল। সাড়ে ৪ বছর আমি জেলে ছিলাম। আমার নেতৃত্বে প্রতিদিন একটা মশাল মিছিল বের করেছি। পুরো দেশে আমার মতো কোনো মেয়ে রাজপথে এভাবে আন্দোলন করেনি।’

 

ঝালকাঠি
ঝালকাঠি জেলায় আলোচনায় আছেন দলের কেন্দ্রীয় নেত্রীদের একজন। এ জেলায় একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা খান।

 

নিজেকে দলের একজন কর্মী হিসেবে দেখেন জীবা আমিনা খান। তিনি বলেন, ‘দল আমাকে যেখানে কাজে লাগাবে সেখানে আমি কাজ করব। আমাকে কোথায় রাখলে ভালো হবে, সেটা দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

 

ভোলা
সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবারের এক সদস্য মনোনয়ন চাইছেন ভোলা থেকেও। সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

 

এ ছাড়া আছেন জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেত্রী এবং আইনজীবী। তারা হলেন, জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং নূরজাহান বেগম বিউটি।

 

জানতে চাইলে খালেদা খানম বলেন, ‘দলের জন্য অনেক শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দলের জন্য যে কাজ করেছি, দল সেটার মূল্যায়ন করবে।’

 

বরগুনা
অন্তত চার আইনজীবী, এক শিক্ষক এবং তিন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চান বরগুনা থেকে। এর মধ্যে আছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক আসমা আজিজ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা এবং বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার পাপড়ি।

 

এছাড়াও আছেন সাবেক কলেজ শিক্ষিক নূর শাহানা হক এবং আইনজীবী রঞ্জুয়ারা শিপু, মেহবুবা আক্তার জুঁই, মারজিয়া হিরা ও মীরা খান।

মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগ ও শিক্ষাগত যৌগ্যতা বিবেচনায় নেওয়ার জন্য দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক আসমা আজিজ। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ যোদ্ধা ছিলাম। একাধিকবার পেটুয়া বাহিনীর হামলা এবং মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি। জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছি, তবু সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। সংসদ নির্বাচনে আমি বরগুনা-১ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু নিজে মনোনয়ন না পেলেও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অত্যন্ত সরব ভূমিকা পালন করি।’

 

পিরোজপুর
দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতিসহ অন্তত তিনজন পিরোজপুর জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে চান। তারা হলেন—বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই।

 

দুঃসময়ে দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান বলেন, ‘আমি ৭ মামলার আসামি ছিলাম। একটি মামলায় আমাদের নেত্রীর সঙ্গে চার মাস জেল খেটেছি। আশা করি ত্যাগের মূল্যায়ন দল করবে।’

 

পটুয়াখালী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে লড়ে হেরে যান সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার। এবার তার স্ত্রী সালমা আলম লিলি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন।

 

এ জেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন—জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।

 

মনোনয়ন পেতে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা। তিনি বলেন, ‘দল করতে গিয়ে ৩টি মামলায় জেলে ছিলাম। আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাবে ছিলাম। আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে এটা আমার বিশ্বাস।’

তৃণমূলের ভাবনা

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বরিশাল বিভাগে আলোচিত নেত্রীদের বাইরে আরও অন্তত ১৫ জন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তৃণমূলের প্রত্যাশা—যেসব নেত্রী দলের দুর্দিনে মাঠে থেকেছেন তাদের যেন বিবেচনায় নেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, দলে অনেক ত্যাগী নারী নেত্রী আছেন। সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও আছে। সবকিছু মিলিয়ে দল বিবেচনা করবে। ত্যাগী, পরীক্ষিতদের এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস করি।

দলের বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের এগিয়ে রাখা হবে। এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top