আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের আমলের ১৫ বছরে ৩২টি রাজনৈতিক মামলাও রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি সবুজ আকনকে। কেন্দ্রীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের ডাকা স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে কর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে সরব ছিলেন। ফল হিসেবে অনেকবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। ৩২টি মামলায় তাকে গত একযুগে ১০ বার গ্রেফতার করা হয়েছে। জেল খেটেছেন মোট ৭১১ দিন।
সবুজ জানালেন, বর্তমানে তিনি ২৭ টি মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় সবুজকে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-৮ এর একটি দল। ১৯ নভেম্বর র্যাব-৮ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বরের (২০২৩) অবরোধ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সবুজ আকন ৬০/৭০ জন কর্মী নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন। রাস্তার ওপর সরকারবিরোধী শ্লোগান দিয়ে গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় তার নেতৃত্বে। এ সময় তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া ও গাড়ি ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ ‘স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট-১৯৭৪’ এর ধারা-১৫(৩) অনুযায়ী মামলা দায়ের করলে সবুজকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর ব্রীজ এলাকা থেকে তাকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করে পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে এয়ারপোর্ট থানাপুলিশ। ওই মামলায় দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন সবুজ। পরে জামিনে বের হয়ে ভাঙ্গা পা নিয়েই তাকে আবারো সরকার বিরোধী আন্দোলনে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের মামলা ও হামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা তখন জর্জরিত ছিলেন। অনেকেই যে কারণে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন; কিন্তু সবুজ ছিলেন ব্যতিক্রম। দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কখনো মশাল মিছিল, ঝটিকা মিছিল, গাছ ফেলে রাস্তা অবোরধ এ ধরণের কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার পুলিশের সাথে সংঘর্ষও হয়েছে।
সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের পাশে তাকে প্রায় প্রতিদিনই রাজপথে দেখা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনের পাশাপাশি পানি, খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন সবুজ। বর্তমানে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন সবুজ। এর আগে বরিশাল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে সবুজ বলেন, আমি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুল জীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ি। চেষ্টা করেছি স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকার। বিনিময়ে ৩২ টি মামলার আসামী হয়েছি। কারাবাস করেছি অনেকবার। তবু পিছু হটিনি। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করেছি।
এই ছাত্রনেতা বলেন, আশা করছি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকার আমাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করবে এবং আমার দল ত্যাগী কর্মী হিসেবে আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।




