মোহাম্মাদ এমদাদ হোসাইন
একটি পরিবেশেরে প্রধানতম উপাদানগুলো হলো পানি, মাটি, বায়ু, উদ্ভিদ, জীবজন্তু ও মানুষ। পরিবেশের এই উপাদানগুলো সুষমভাবে থাকার উপর নির্ভর করে পরিবেশের সুস্থতা। কিন্তু পরিবেশের মধ্যে নিয়মিত ঘটছে দূষণ। পানি দূষণ, বায়ু দূষণ ও ব্যাপক হারে কার্বন নিসঃরণ পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। ব্যাপকহারে নিধন করা হচ্ছে বন। গাছ কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। গ্রামীণ সমাজে কলকারখানার প্রভাব না থাকলেও এখানে বৈধ ও অবৈধভাবে ব্যাপক হারে গড়ে উঠছে ইটভাটা।
ভাটাগুলোতে কয়লার ব্যবহার খুবই কম। কাঠ সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় কয়লার পরিবর্তে তারা পোড়াচ্ছে কাঠ। যার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে ফুড চেইন আর অদৃশ্য হতে শুরু করেছে গ্রামীন জীব বৈচিত্র।
দেদারসে গ্রামীণ ফসলের মাঠকে ব্যবহার করা হচ্ছে গৃহায়নসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজে। বিদ্যুতের লাইন টানা হচ্ছে ফসলের মাঠ দিয়ে আর পোতা হচ্ছে ইলেক্টিক পোল। যেখানে সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে মোবাইল টাওয়ার আর রেডিও তরঙ্গের কারণে কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদনের হার ও হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জীব বৈচিত্র। অনেক বন্য প্রাণীই এক সময় ছিল যা এখন আর দেখা যায় না- যা বাস্তুসংস্থানের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা পালন করতো। হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে কুইচা, কাকড়া, ব্যঙ, হলদে পাখি, কাঠ ঠোঁকড়া পাখি, বেজি, সাপ, ডাহুক, চিল, শকুন, পেঁচা, গুই সাপ, আরো কত কী!
পরিবেশের এই দুষণের কারণে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হচ্ছি। তাছাড়াও ওজন স্তর ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ার কারণে পৃথিবীতে বেড়েই চলছে গামা রশ্মির প্রভাব যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী। গামা রশ্নির প্রভাবে কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন ও হারিয়ে যাচ্ছে জীব বৈচিত্র| আর ক্রমান্বয়েই পরিবেশের মধ্যে ভারনাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রামীন পুকুর, ডোবা, খালসহ বিভিন্ন ধরনের জলাশয় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ভরাট করা হচ্ছে। এই গ্রামীন জলাশয় ভরাটের পরিমান ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ইহা গ্রামীন জলাশয় ভরাটের প্রতিযোগীতা। আসছে জেনারেশন পুকুর বলতে যে কিছু ছিল তা মানতেই চাইবে না। এই গ্রামীন জলাশয় বিলুপ্তির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীন জীব বৈচিত্র এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরী হচ্ছে।
এখনই সময় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আনতে জীব বৈচিত্রকে রক্ষা করা। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ পরিস্তিতিরি স্বীকার হবে এবং যার ক্ষতি কোনভাবেই পোষানো সম্ভব হবে না।




