শিক্ষা সফর : কুয়াকাটায় প্রাণের মেলায়

উত্তম গোলদার

মানুষের জীবনে শিক্ষার কোন শেষ নেই। যে কেউ, যে কোন বয়সেই শিখতে পারেন। তার জন্য চাই মনবল। লক্ষ্য ঠিক থাকলে একদিন না একদিন গন্তব্যে পৌছানো যায়। এরকম হাজারো নজির রয়েছে। তেমনি বাংলদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখা আস্তে আস্তে এই সংগঠনটি একটি ভালো সংগঠনে রূপান্তরিত হতে পেরেছে। জীবনের সাথে শিক্ষার সম্পর্ক যেমন নিবিড়, শিক্ষার সাথে সফরের সম্পর্কও তেমনি নিবিড়। তাই ভ্রমন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফরের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে শিক্ষক ও তাদের পরিবারদের নিয়ে ‘সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়’ শিক্ষা সফর সম্প্রতি শেষ হয়। এই ভ্রমণকে নিয়ে গত একমাসব্যাপী নানা জল্পনা-কল্পনার পরে গত ১১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সকল সাড়ের আটটায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার কলেজ রোড এলাকা থেকে একটি পরিবহন গাড়িতে করে বরগুনা-আমতলি-করাপাড়া হয়ে ৬৫-৭০ জনের একটি টিম কুয়াকাটায় যাত্রা করেন এবং এরমধ্যে কেই আবার অনেকেই মটরসাইকেল করেও সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় ভ্রমণে অংশ নেয়।

গাড়ি পৌছানোর পরে হোটেলে উঠেই খানিকটা বিশ্রাম করে নেমে পড়েন সমুদ্রস্নানে। সমুদ্রস্নান উপভোগ করতে বাদ যায়নি শিশু থেকে বয়স্ক শিক্ষকরাও। এরপর ‘গ্রেভার ইন’ হোটেলে চলে দুপুরের খানা-পিনা। খাবার গ্রহণ শেষে লাকি কুপন ‘ড্র’, এরপরে বেড়িয়ে পরে সমুদ্র সৌন্দার্যে দেখতে। যে যার মতো করে ছবি তুলছে। কেউ বা ঘুড়ি উড়াচ্ছে। আবার কেউ অটোরিক্সা এ করে লাল কাকড়ার চর, ঝাউবন, শুটকি পল্লী ঘোরার বৌদ্ধ মন্দির, শত বছরের পুরানো নৌকা দেখতে যান। নানা রকম আনন্দ। ঘুরতে ঘুরতে দিন শেষের পথে সবাই তাকিয়ে আছে সূর্যাস্ত দেখার জন্য।

সূর্যাস্ত দেখে সবাই নিজ নিজ ঘরে ফেরার পালায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এখন বাড়ি ফেরার পালা। আবারও গাড়িতে করে পটুয়াখালী-লেবুখালী-বাকেরগঞ্জ হয়ে এলাকায় পৌছায়। পথিমধ্যে দৃষ্টিনন্দন লেবুখালীর পায়রা ব্রীজ দেখে সবাই মুগ্ধ হন এবং ছবি তুলে ম্মৃতি হিসেবে রাখেছেন। প্রতিটি স্টপেজে নানা রকম মুখোরচক খাবার পরিবেশন করেন বাংলদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এম শামীম আহম্মেদ নাসির। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সুন্দর একটি ভ্রমণ হয়েছে।

রাত এগারোটার দিকে সুবিদখালী এসে গাড়ি পৌছলে সকলে বাড়ির উদ্যেশে চলে যান এবং বাড়িতে ঠিকভাবে পৌছাতে পেরেছেন কিনা সেই বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষা সফরে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রিয়াজুল হক। বিশেষ অতিথিরা ছিলেন সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নিজাম উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সহকারি অধ্যাপক মোঃ আঃ মন্নান লোটাস. সাধারণ সম্পাদক গাজী মশিউর রহমান, মির্জাগঞ্জ বহুমুখী সমিতি ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রভাষক মো. মাহাবুবুর রহমান টুকু, কবি এস.এম. নুরুল হক (প্রভাষক), বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক এম শামীম আহম্মেদ নাসির, সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা সম্পাদিকা মাহামুদা আক্তার,সহ-মহিলা সম্পাদিকা ইসরাত জাহান রুমি, কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন প্রমূখ।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, উপজেলায় বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখা ভালো কাজের মাধ্যমে শিক্ষকদের মন জয় করতে পেরেছে। সবচেয়ে আলোচিত ছিলো অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান শিক্ষককের শেষ কর্মদিবসের দিন। তাকে শেষ কর্মদিনে ফুলের মালা পড়িয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ধুধধাম করে তাঁর বাড়িতে পৌছে দেয়া। আমরা এ সমতির মাধ্যমে নানা সামাজিক কাজ করে থাকি। যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের সংগঠন শিক্ষকদের সংগঠন। শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top