ডেস্ক রিপোর্ট
ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ফাতওয়া কাউন্সিল জানিয়েছে, রমজান শেষ হবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)। শুক্রবার (২০ মার্চ) হবে ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন এবং শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরির শুরু।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক চাঁদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে। নতুন চাঁদ, চাঁদ অস্ত এবং চাঁদের দৃশ্যমানতার হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিটি অনেক প্রখ্যাত বৈশ্বিক ইসলামি শিক্ষাবিদদের স্বীকৃত।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল এবং ফাতওয়া কাউন্সিল জানিয়েছে, কিছু শিক্ষাবিদ ও ইমাম ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। তারা মুসলিম সম্প্রদায়কে পার্থক্যকে সম্মান করা এবং ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষা করা যায়।এদিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ২১ মার্চ ঈদ উদযাপন করতে পারে পাকিস্তান। গেল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ৩০ দিনের রমজান পূর্ণ হলে পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো) বুধবার জানায়, শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরির নতুন চাঁদের জন্ম হতে পারে ১৯ মার্চ পাকিস্তান সময় সকাল ৬টা ২৩ মিনিটে।
সুপারকোর মতে, ওই দিন সূর্যাস্তের সময় অমাবস্যার বয়স হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে সূর্যাস্ত ও চাঁদ অস্ত যাওয়ার মধ্যে ব্যবধান থাকবে প্রায় ২৮ মিনিট। এই জ্যোতির্বিদ্যাগত অবস্থার কারণে ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেক্ষেত্রে পহেলা শাওয়াল পড়তে পারে ২১ মার্চ শনিবার, অর্থাৎ ওই দিনই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চাঁদ দেখা ও দেশে ঈদ শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
উল্লেখ্য, এক মাস রোজা রাখার পর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান গভীর ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। ধৈর্য, আত্মসংযম ও উদারতার চর্চার মধ্য দিয়ে রমজান শেষ হয় এই উৎসবের মাধ্যমে।
ইসলামি চান্দ্র ক্যালেন্ডারে মাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয় এবং চাঁদ দেখার ওপরই মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারিত হয়। তাই রমজান প্রতি বছর একই গ্রেগরিয়ান তারিখে পড়ে না। ১২ মাসের ইসলামি বর্ষ চাঁদের হিসাব অনুযায়ী হওয়ায় এটি গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১০ দিন ছোট। এজন্য প্রতি বছর রমজানের সময়ও এগিয়ে আসে।
সূত্র : গালফ নিউজ/এশিয়া পোস্ট




