সদ্য ভূমিষ্ট বিপ্লবকে যেভাবে দাফনের আয়োজন করা হচ্ছে

 

মোঃ রাজিব হোসেন

একটি বিপ্লব! একটি স্বৈরশাসকের নির্মম পতন।বাতাসে পোড়া লাশের উৎকট গন্ধ। অগণিত মানুষের ঝরে যাওয়া তাজা প্রাণ! তপ্ত পিচঢালা রাস্তায় টগবগে ফুটন্ত তরল রক্ত ঢেলে দেওয়া। অগণিত অঙ্গহারা আদম সন্তানের আর্তচিৎকার। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের খাটিয়া। অবুঝ সন্তানের সামনে বাবার নিথর দেহ। নব্য বিবাহিত স্ত্রীর সদ্য বিধবা হওয়া! জালিমের কারাগারে আটক স্বামীর মুক্তির জন্য স্ত্রীর সম্ভ্রমহানী। দুগ্ধ পানকরা শিশুকে বাইরে রেখে মাকে মাসের পর মাস কারারুদ্ধ রাখা। ছেলের অনুপস্থিতিতে বাবাকে তুলে নিয়ে কারাগারে নির্যাতন করে হত্যা। মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে যুগের পর যুগ বাস্তুভিটাহারা। বাবা-মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে জানাজায় শামিল হতে না পারা এবং কবরে এক টুকরো মাটি দিতে না পেরে গুমরে কাঁদা। সাদা পোশাকে তুলে যাওয়ার পরে হাড্ডিসার দেহটাকে কোনো একসময় খুঁজে পাওয়া কিংবা একেবারে হারিয়ে ফেলা।

ফ্যাসীবাদের দোসর কতৃক ফসলের মাঠ, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লুটপাট। মামলা হামলার ভয়ে বনেজঙ্গলে হিংস্র জানোয়ারদের সাথে নির্ঘুম রাত কাটানো। অনেক ত্যাগ…..অনেক ত্যাগ……।

অথচ যাদের ডাকে জীবন বাজি রেখে এই নিরীহ মানুষগুলো এক-একটা জলন্ত আগ্নেয়গিরির রূপ ধারণ করেছিল তারা বেমালুম ভুলে গেছেন এই অতুলনীয় ত্যাগের কথা। শহীদদের রক্ত ও জীবন্ত শহীদদের অর্জনকে তারা মসনদের দামে নিলামে বিক্রি করে দিচ্ছে। হাত মেলাচ্ছে খুনিদের রক্ত রঞ্জিত হাতের সাথে!

অথচ এই মানবতার ফেরিওয়ালারা কর্মীদের ত্যাগের কেচ্ছা রটিয়ে নিজেরা অনেক ফায়দা তুলেছে। সন্তানহারা মা, স্বামীহারা স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তারেরা আজ বিশ্বাসঘাতকদের হিংস্র রূপ দেখো। তবে জবাব দেওয়ার সময় খুব নিকটে।

আমাদের সবাইকে রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক হতে হবে। কারণ এদেশ আপনার আমার আমাদের সবার। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।

লেখক : তরুণ রাজনীতিক ও পল্লী চিকিৎসক।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top