মোঃ রাজিব হোসেন
আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় সবজি একটি অপরিহার্য উপাদান। এক সময়কার মাছে-ভাতে বাঙালির প্লেটে বর্তমানে দু’বেলা সবজি-তরকারি না হলে আর চলে না! এইতো তিন মাস আগেও অতিবৃষ্টির কারণে যখন তরিতরকারির দাম চড়া হয়ে গিয়েছিল তখন বাঙালির চিৎকার চেচামেচিতে শোরগোল শুরু হয়েছিল। সবাই সবজি চাষে ঝাপিয়ে পরেছিল।
দেশের এক টুকরো জমিও কেউ আর অনাবাদি রাখবে না বলে শপথ নিলো। কেউতো নতুন সরকার মহোদয়কে তীরষ্কার করতেও পিছপা হলো না। যাই হোক, আল্লাহর অসীম রহমতে আমরা নতুনভাবে কৃষি বিপ্লবে সফল হয়েছি। সাধারণ জনগণ এখন সন্তুষ্ট; কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা দিলো নতুন বিপত্তি। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে হারাচ্ছেন চাষাবাদের আগ্রহ। এটা জাতির জন্য অশনি সংকেত। কারণ কৃষক তার কৃষিক্ষেত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য আবার আকাশচুম্বী হবে।
এ বছর অনেক কৃষককে দেখেছি মাঠেই ফসল নষ্ট করে ফেলতে। কারণ ফসল তোলার খরচও তারা পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি হতে পারে? স্বচ্ছল ব্যবসায়ী মহলকে এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। অধিক উৎপাদিত এলাকা থেকে কম উৎপাদিত এলাকায় সহজ পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের বাঁচাতে চাহিদাসম্পন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে।
পরিবহন খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ফিরতি পথে পণ্য পরিবহন সেবা নিতে পারে। সর্বোপরি কৃষি পণ্য ভোক্তার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা কৃষি ক্ষেত্রে যে নতুন বিপ্লব এনেছি এটাকে ধরে রাখতে হবে। সকল স্থানে আবহাওয়া ও জলবায়ু উপযোগী কৃষি পণ্যের চাষাবাদ করতে হবে। আমরা উৎপাদনের অভাবে আর কখনো কৃষি পণ্য আমদানি করবো না, ঠিক তেমনি বিপণন প্রক্রিয়ার অভাবে পণ্য নষ্টও করবো না, ইনশাআল্লাহ।
লেখক : ব্যবসায়ী




