মোঃ রাজিব হোসেন
একটি বিপ্লব, একটি জাতির সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বোনিন্ম স্তরের জনতার কাছে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের কল্পিত জাদুর কাঠি হিসেবে ধরা দেয়। অবস্থানভেদে স্বপ্নের ধরনগুলো ভিন্ন হলেও সবাই কল্পিত স্বপ্নটাকে নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে রঙিন করে সাজায়! এখানে জাতির নীতি নির্ধারকেরা যেমন অংশগ্রহণ করেন তেমনি ছাত্র-জনতা তথা শ্রমিক, কুলি, রিকশাচালক সবাই নিঃস্বার্থ ত্যাগের নেশায় ঝাপিয়ে পড়ে।
দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে গেল জুলাই আন্দোলনেও বাংলাদেশের বীর জনতা তেমনি ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই আন্দোলনে ছাত্রদের ত্যাগ সর্বোচ্চ হলেও রিকশাওয়ালার জীবন বিলিয়ে দেওয়ার নজির আছে। আমরা স্বৈরাচার বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে সকল শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সমবেদনা জানাচ্ছি তাদের পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণে।
আমরা সচেতন নাগরিক মানেই সকলে জানি যে বিগত স্বৈরাচার দেশের অর্থনীতিকে কিভাবে ধ্বংস করে গেছে এবং দেশটাকে একটা জলন্ত আগ্নেয়গিরির উপর বসিয়ে দিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের অনেকেই বিষয়টা এতটাগভীরে উপলব্ধি করতে পারছে না। আমরা বর্তমানে আওয়ামী অপশাসন ও লুটপাটের এক ভয়াবহ শূন্যতার মাঝে বিরাজ করছি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। নতুন বিপ্লবে যে রিকশাওয়ালা, শ্রমিক ও সাধারণ জনতা আশায় বুক বেধেছিল, তাদের স্বপ্নগুলো এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্রদের ত্যাগ সবচেয়ে বেশি হলেও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ না থাকলে এটা সফলতার মুখ দেখাতো না। কাজেই তাদের আত্মত্যাগকে কোনো ভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের মাঝে বিগত স্বৈরাচার আমলের লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার তসরুপের তথ্যসমূহ বিশদভাবে তুলে ধরতে হবে এবং এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে সিন্ডিকেটের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। একাজের জন্য প্রতি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং ছাত্রদের অংশগ্রহণে এক বা একাধিক বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা যেতে পারে। কৃষক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে অধিক মুনাফা অর্জন করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভকারী দেশটির জনগণ ১৯৭৫ সালের মধ্যেই উচ্চারণ করেছিল, ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো।’ কবির ভাষায় ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি!’
বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবকে আমরা ক্ষুধার রাজ্যে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। আমরা বৃটিশ, পাকিস্তান এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছি। এবার সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার এই সংগ্রামেও বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
মোঃ রাজিব হোসেন
আহ্বায়ক, দেহেরগতি সমাজ কল্যাণ পরিষদ।




