ড. ইউনূসকে হটানোই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রধান লক্ষ্য

 

মোঃ রাজিব হোসেন

চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী মাত্র ছয় মাসে ১৩৬টি দাবি দাওয়া সংক্রান্ত আন্দোলন করে এদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে এক নতুন হিমালয়ের চূড়ায় স্থান দিয়ে ফেলেছি! জাতি মতপ্রকাশের এতো স্বাধীনতা পেয়ে গেছে যে, দীর্ঘ সতেরো বছরের বোবাকান্নাকে এখন ইসরাফিলের সিঙ্গায় তুলে বাজাচ্ছে। বিগত ‘উন্নয়নের জোয়ারের স্রোতে’ রাষ্ট্রীয় কোষাগার তলাবিহীন ঝুড়ি এবং ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণের সাগরে সাতার কাটছে জাতি।

ইন্টারিম সরকারের ছয় মাসে জাতি এখনো মূদ্রাস্ফীতির যাঁতাকলে পরেনি। দ্রব্যমূল্য এখনো মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। লক্ষাধিক সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হওয়ার পরেও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পরছে না। মানুষ এখন প্রাণ খুলে হাসতে পারছে। দাবি আদায়ের জন্য চিৎকার দিতে পারছে। এটা তো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পরে না! এ জাতি কেন এতটা স্বাধীনতা ভোগ করবে? নিজ ভূখণ্ড রক্ষায় কেন সীমান্তে আগ্রাসী হবে? পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে কেন সোচ্চার হবে? এত সুবিধা কি কোনো সেবাদাস মসনদে থাকলে জাতি ভোগ করতে পারতো?

স্বাধীনতার ৫৫ বছরের দেশপ্রেমিক সেবাদাসদের তো অনেক দেখা হলো! বিনিময়ে জাতির ভাগ্যে গোলামী ছাড়া কি জুটেছে?

আজ ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে শুরু করা ড.ইউনূস এদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে শিখাচ্ছেন। সেবাদাস এবং তাদের প্রভূদের তো মাথা এখন নষ্ট। তাইতো দীর্ঘদিন গণমানুষের অধিকার হরণ করে এখন আবার তাঁরাই দাবি আদায়ের পক্ষে বেশি সোচ্চার। স্বৈরাচারের দীর্ঘ অপশাসনের করালগ্রাস থেকে জাতি এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। প্রতিটি স্তরে তাদের রেখে যাওয়া দূর্নীতিবাজরা এখনো তাদের নিমকের শোকর আদায়ের চেষ্টা করছে। তাইতো পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার এখনো হুংকার দেওয়ার সাহস দেখায়। স্বৈরাচার বিরোধী একটা অংশকে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে দ্রুত নির্বাচন করার দাবিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে মদদ দিচ্ছে।

একটা তথ্য আপনারা অন্তরের হার্ডডিস্কে সেভ করে রাখুন। দেশের বর্তমান অবস্থায় ড.ইউনূস পদত্যাগ করে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সম্মিলিত একটা সরকারের কাছেও যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যায়, তবে সর্বোচ্চ ছয় মাস সেই সরকার স্থায়ী হতে পারে। আমার পরিচিত কিছু আওয়ামী লীগের কর্মীর কথায় এটাই বুঝতে পারছি যে বিএনপি কিংবা জামায়াত নয় ; আওয়ামী লীগের এখন প্রধান এবং এক নম্বর শত্রু ড.ইউনূস। কারণ আওয়ামী লীগের প্রভূ ভারতও এই খেলোয়াড়ের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তাদের প্ল্যান এ,বি,সি,ডি এখন জেড পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছেন ড.ইউনূস!

তাই বাংলাদেশের সকল মজলুম রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ থাকবে যে, আত্ম বিভেদের নামে আত্মহননের পথ পরিহার করে ড.ইউনূসের হাতকে শক্তিশালী করে সংস্কার কাজে সহায়তা করুন। আপনাদের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের কারণে যেন আবার স্বৈরাচারের পুর্নবাসন কিংবা গণতন্ত্রের হত্যা না হয়। আমরা সকল জঞ্জাল সরিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের অংশীদার হতে চাই।

লেখক : রাজনীতিবিদ ও পল্লী চিকিৎসক।
email : rajibbrl1989@gmai.

(কলাম বিভাগে  প্রকাশিত লেখার মতামত সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব)

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top