এইচ এম আনিছুর রহমান, মেহেন্দিগঞ্জ : মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। যার ফলে হাতাশা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ কর্মীদের মাঝে।
এ বছর মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিবসটি পালনের মধ্যে দিয়ে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক এমপি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান গ্রুপের বিভেদ প্রকাশ্যে আসে। যার কারণে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর সেই বিভক্তি কাজে লাগিয়ে হাইব্রিড নেতা-কর্মীদের দাপটে কোঠাসা হয়ে পড়েছেন দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও কথা মত নিজ বলয়ে না এলে নিজ দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিপক্ষের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আতংক ও অপমানের ভয়ে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সভা-সমাবেশ করেন। একদিকে থাকেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু,অপরদিকে আরেক অংশের নেতৃত্বদেন উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন।
কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর থেকে ভিতরে ভিতরে গ্রুপিং সৃষ্টি হতে থাকে। যা প্রকাশ্য রূপ নেয় মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা জানান ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সব প্রোগ্রামে জেতে পারি না কারণ একজনের প্রোগ্রামে গেলে বাকিরা বিরাগভাজন হবে। তার চেয়ে ভালো চুপচাপ বসে থাকি। তিনি আরো বলেন, এই বিভেদের প্রভাব পড়ছে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে।
মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, উপজেলা নেতাদের দুটি গ্রুপের বিভক্তির কারণে পাড়া মহল্লায় এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনতিবিলম্বে সবাইকে বিএনপির মধ্যে বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার পাশাপাশি দ্রুত সবকটি ইউনিয়নের কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান তিনি।



