মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা বিএনপি নেতার

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকে খোরশেদ আলম সিকদার নিমে এক বৃদ্ধকে পিটেয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় খোরশেদ আলমের চার স্বজনকেও মারধর করা হয়েছে।

 

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ২২ বছর আগের পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় জড়িত মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে দল থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে। পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত খোরশেদ আলম সিকদার (৫৭) চরহোগলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় ট্যানারি কারখানায় কাজ করতেন। আহতরা হলেন, তোতা সিকদার, রাকিব সিকদার, মোকেছদ সিকদার ও টুম্পা বেগম।

আহত রাকিব সিকদার বলেন, খোরশেদ আলম ২০০৪ সালে একতলা একটি ঘর নির্মাণ করেন। ঘর নির্মাণের ঠিকাদার রাজমিস্ত্রি ছিলেন একই এলাকার জাহাঙ্গীর হাওলাদার। ঘর নির্মাণের সময় খোরশেদ আলম সিকদার নিয়মিত হাজিরার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু ঘর নির্মাণ শেষ হওয়ার পর হিসাব করে দেখা যায়, রাজমিস্ত্রি জাহাঙ্গীর হাওলাদার আরও ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাবেন। ওই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। পরে সালিশের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

তিনি বলেন, খোরশেদ আলম সিকদার দীর্ঘদিন বাড়ি আসেননি। এ বছর ঈদে বাড়িতে আসেন। রোববার সকালে জাহাঙ্গীর হাওলাদার তার তিন ছেলে নাঈম হাওলাদার, জাফর হাওলাদার ও তুহিন হাওলাদারকে নিয়ে এসে টাকা চান। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ নিয়ে এসে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে বকেয়া টাকা ওই মুহূর্তে পরিশোধের দাবি করেন। তখন তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে নাঈম হাওলাদার ক্ষিপ্ত হয়ে খোরশেদ আলমের বুকে লাথি দেন এবং জাহাঙ্গীর হাওলাদার, জাফর ও তুহিন পেটান। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে রাকিবসহ চারজন মারধরের শিকার হন। পরে খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে দল থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকায় জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হলো।

 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার ও তার ছেলেরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সালিশ-বৈঠক ছিল। সেখানে হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় একজন মারা গেছেন। এজাহারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top