উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯অক্টোবর) সকাল নয়টায় দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়ে সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কর্মীরা সম্মেলনে যোগ দেন।
উপজেলা আমির মাওলানা মোঃ সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের পটুয়াখালী জেলা নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক মোঃ আব্দুস সালাম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের পটুয়াখালী জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ শহিদুল্লাহ কায়েসারী।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে কোন মিছিল-মিটিং করতে পারেনি। বিনা অপরাধে আমিসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের কারাভোগ করতে হয়েছে। সেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে গত ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে হটানোর পরে এই দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জলুমবাজ ও ফ্যাসিস্ট সরকার চলে গেলেও এদেশের মানুষ এখনো মুক্তি পায়নি। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি হচ্ছে, এবংতা শুধু হাতবদল হয়েছে। যে ছাত্ররা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে তারা জান্নাতে চলে গেছেন। তারা এই কঠিন সংগ্রাম করে দেশকে স্বাধীন করছেন এবং তা আমাদের শক্ত হাতে রক্ষা করতে হবে।
অধ্যাপক সালাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এত বেশি ছাত্র-জনতা হত্যা করেছে, যে পৃথিবীর ইতিহাসে এত জঘন্যতম, নির্মমতা ও পৈশাচিকতা আর আর ঘটেনি। অথচ এই সরকার চলে যাওয়ার পরে তাদের শাসনামলের সবচেয়ে নির্যাতিত দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোন প্রতিশোধ নেয়নি। আমরা প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই, আমরা শান্তি চাই।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মােঃ শাহজালাল, মির্জাগঞ্জের ইসলামী এজেন্ট ব্যংকের পরিচালক মোঃ ইন্জিঃ মিজানুর রহমান, মাওলানা মোঃ সুলতান, আবু হানিফ, মাওলানা বশিরুল আলমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সভাপতি-সেক্রেটারিবৃন্দ।




