চরফ্যাশন প্রতিনিধি : চরফ্যাশনে মাল্টিপারপাস ব্যবসার আড়ালে চড়া সুদের কারবারের অভিযোগ উঠেছে সুজন নামে ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চড়া সুদের কিস্তি প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্রব্যবসায়ীকে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ আছে মাল্টিপারপাস ব্যবসায়ী সুজনের বিরুদ্ধে। সুজনের দ্বারা নাজেহালের অভিযোগ তুলে ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে চরফ্যাশন সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও ঝাঁড়ু মিছিল করেন ।
জানাযায়, মো. সুজন মিয়া চরফ্যাশন সদরে আল আরাফা নামের একটি ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়ী সাইনবোর্ড টানিয়ে চড়া সুদের কারবার করে আসছেন। তার চড়া সুদের টাকা দিতে ঋণ গ্রহীতারা অস্বীকার করলে তিনি একাধিক ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। সুজনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বুধবার দুপুরে কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার সুদের কারবার বন্ধ ও ব্যবসায়ীদের মারধর করার বিচারের দাবিতে ঝাঁড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। চরফ্যাশন সদর রোডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম টিপু।
সমাবেশে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সুদ ব্যবসায়ী সুজন মিয়া কিস্তির টাকার জন্য বাজার ব্যবসায়ী কামাল হোসেনকে ঘরের দরজাবন্ধ করে আটক রাখেন এবং মারধর করেন। অবরুদ্ধ এবং আক্রান্ত কামালকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে ব্যর্থ হন বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। ফলে কামালকে উদ্ধারে এগিয়ে যান স্থানীয় বিএনপির নেতা খায়রুল ইসলাম সোহেল। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সুদব্যবসায়ী সুজন মিয়া বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সোহেলকে নিয়ে অপপ্রচার চালান। ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা এসব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী মো. রায়হান বলেন, আমি সুজন মিয়ার কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে শতকরা ১০ টাকা হারে সুদে পরিশোধ করার শর্তে ঋণ নিয়ে কিছ টাকা পরিশোধ করার পরে বাকী সুদসহ তার টাকা পরিশোধ করতে গেলে সুদকারবারী সুজন আমার কাছ থেকে শতকরা ১৫ টাকা সুদ হারে টাকা দাবি করে। এতে তার সাথে আমার বিপত্তি শুরু হয়। অতিরিক্ত শতকরা ৫ টাকা হারে সুদের টাকা দিতে অস্বীকার করে ফিরে আসি। পরে ওই টাকার জামিনদার হিসেবে আমার বাবা কামাল উদ্দিন থাকার কারণে সুদ ব্যবসায়ী সুজন বাবাকে তার আল আরাফা অফিসে ডেকে নিয়ে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা বাবাকে উদ্ধারে গেলে ব্যর্থ হন। পরে বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সোহেল বাবাকে উদ্ধার করেন।
ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানান, আমার ছেলের টাকার জামিনদার হওয়ার সুযোগে ওই সুদ কারবারী সুজন আমাকে ডেকে নিয়ে তার অফিসে আটক করে মানসিক ভাবে হেনস্তা করেন। পরে খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা আমাকে উদ্ধার করতে গেলে ব্যর্থ হলে বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সোহেল আমাকে তার জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেন।
কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, রায়হান ও কামাল উদ্দিনের মতো তার কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তিনি অফিসে ডেকে নিয়ে তাদেরকেও মারধর ও হেনস্তা করেন । এ সময় তারা তার সুদ ব্যবসা বন্ধ ও তাকে বিচারের দাবি করেন তারা।
অভিযুক্ত সুজন জানান, আমি ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসা করি। সবাই নিজেদের প্রয়োজনে অফিসে এসে ঋণ নেন। ওই ঋণ গ্রহীতা রায়হান ও কামালের ঋণ খেলাপি থাকায় কামালকে অফিসে ডেকে এনে কারণ জানতে চেয়েছি। তাকে মারধর বা হেনস্তার বিষয়টি সঠিক নয়।
চরফ্যাশন থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসনা শারমিন মিথি জানান, বাজারের ব্যবসায়ীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।




