বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুরে ফিল্মি স্টাইলে এক দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (১৪) প্রকাশ্যে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় বখাটে যুবক সালমান খান হৃদয় ও চাখার সরকারি ফজলুল হক কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তামজিদ নুসায়ের মিরন সরদারের নাম।
ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের চান্দু মোল্লার বাড়ির সামনের রাস্তায়। অপহরণের শিকার মেয়েটি চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা সাথী আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে সালমান খান হৃদয় তার মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রেমের প্রস্তাব ও নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিল। এ বিষয়ে প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বরিশাল আদালতে একটি মামলাও করেন। আদালতের নির্দেশে হৃদয় মুচলেকা দিয়ে সে সময়ে রেহাই পেলেও পুনরায় ইভটিজিং শুরু করে।
এ নিয়ে স্কুলছাত্রীর নানা প্রতিবাদ করলে হৃদয় ও তার পিতা আ. ছালাম তাঁকে মারধর করে আহত করে। পরবর্তীতে মেয়ের নিরাপত্তার কারণে মা নিজেই তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং ফিরিয়ে আনতেন।
ঘটনার দিন মেয়েটি মূল্যায়ন পরীক্ষা শেষে তার ভাগ্নে কাওসারের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা অপহরণকারীরা তাদের গতিরোধ করে। এরপর কাওসারকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং মেয়েটিকে টেনে-হিঁচড়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল তামজিদ নুসায়ের মিরন, শাওন, ফাহিম সিকদার, ইমন সিকদারসহ আরও কয়েকজন।
ঘটনার সময় মেয়েটির ফুপা মোস্তফা মোল্লা ও ফুপু রুনু বেগম প্রতিবাদ করলে তাদেরও মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা সাথী আক্তার বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় নাম উল্লেখ করে ৫ জন এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অপহরণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।




