বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের পরে এক বিএনপি নেতার দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে চাখার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে অবরুদ্ধ করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।
এদিন সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু বলেন, চাখার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকে তার হিসাব নম্বরের ষ্টেটমেন্ট আনতে গিয়েছিলেন। বের হওয়ার সময় নিচ থেকে একজন তাকে ফোন করে। সে তাকে জানায়, বের হলেই তার উপর হামলা হবে। তখন তিনি আর ব্যাংক থেকে বের হননি। এক পর্যায় দেখতে পান ব্যাংকের সামনে থাকা তার মোটর সাইকেলটি অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি থানার ওসিকে ফোন করে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন। সন্ধ্যার দিকে ওসি গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সোনাহার গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা ফারুক সিকদার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাসহ আওয়ামী লীগের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে আসামী করে বানারীপাড়া থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ধাওয়া দেয়। তখন তিনি গিয়ে চাখার বাসস্ট্যান্ডে তার মালিকানাধীন ভবনের একটি ব্যাংকে আশ্রয় নেয়। তখন তার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়।
ওসি আরো জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সেখানে পাঠানো পুলিশ সদস্যদের সাথে আসতে সাহস পায়নি। তাই সন্ধ্যার পর গিয়ে ব্যাংক থেকে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন। চাখারের বিএনপি নেতা ফারুক সিকদারের দায়েরকৃত চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বরিশালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে উপজেলা জাসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে চাখার ডাকবাংলো সংলগ্ন মাদারকাঠী বাসস্ট্যান্ডে হত্যার ঘটনায় মজিবুল ইসলাম টুকুকে ২নং আসামি করে নিহতের ছোট ভাই সৈয়দ তরিকুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




