বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
জুমার দিনের গুরুত্ব অনেক। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন। এ দিনের বেশ কিছু আমল আছে। এ আমলগুলো হজরত মুহাম্মদ (সা.) করেছেন। তিনি সাহাবিদের করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এ আমলগুলোর করার দ্বারা ব্যক্তির আমলনামা সওয়াবে ভরপুর হয়। ব্যক্তি জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ লাভে ধন্য হয়। আমলকারীর কথা জানতে পারেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আমলকারী বাঁচতে পারে দাজ্জালের ফেতনা থেকে।
জুমার নামাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। বেচাকেনা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)
সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমার দিন একটু বেশি আমল করা হয়। নামাজের জন্য উত্তমভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। যারা সাধারণত সপ্তাহের অন্যান্য দিন নামাজ পড়েন না, তারাও জুমার দিন নামাজে আসেন। এই ব্যতিক্রম মুসলমানদের আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। জুমার দিন পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনে একটি আমল বেশি বেশি করতে বলেছেন। কারণ, জুমার দিনের এ বিশেষ আমলটি তার কাছে উপস্থাপন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)
এখানে দশটি দরুদ উল্লেখ করা হলো—
এক. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২৯২)
দুই. উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ।
অর্থ: আল্লাহ মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনান নাসায়ি, হাদিস: ১৭৪৬)
তিন. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মি (নিরক্ষর) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৮১)
চার. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি রহমত বর্ষণ করো তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এবং সব মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৪৪)
পাঁচ. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা, ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাতি।
অর্থ: হে আল্লাহ, তাঁকে তুমি কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ জায়গা দিয়ো। আমার সুপারিশ তাঁর জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৯৩৬)
ছয়. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৮)
সাত. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১২২৬)
আট. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি, ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররি য়াতিহি, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা, ফিল আলামিনা ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের ওপর। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ করো যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৩৮)
নয়. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, আবদিকা ওয়া রাসুলিক, কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার বান্দা এবং রাসুল মুহাম্মদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিমের পরিবার-পরিজনের ওপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিমের ওপর। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭৯৮)
দশ. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদি নিন্নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৭০)
এশিয়া পোস্ট




