
ডেস্ক রিপোর্ট
১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা পর ৮৫ বছরের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী সাফল্য অর্জন করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচানে বেসরকারি ফলাফলে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল দাঁড়িপাল্লা। ফলে ১৩ বছর পর বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ফিরছে জামায়াত।
এর আগে জামায়াতের সেরা নির্বাচনী সাফল্য ছিল ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ১৮ আসন প্রাপ্তি। স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। দলটি ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট করে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ নামে নির্বাচনে অংশ নেন জামায়াত নেতারা। সেবার ছয় আসনে জয়ী হয়েছিলেন তারা।
১৯৮৬ সালে নিজ নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১০ আসন পায় জামায়াত। ১৯৯১ সালে আসন বৃদ্ধি হলেও, পতন ঘটে ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে। সেবার ৩০০ আসনে অংশ নিয়ে তিনটিতে জয়ী হয় জামায়াত। ১৯৯১ নির্বাচনে ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেলেও, সপ্তম সংসদে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পায় দাঁড়িপাল্লা।
২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ভোটে অংশ নেয় জামায়াত। ৩১টি আসনে প্রার্থী দেয়। ১৭টিতে জয়ী জামায়াত ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পায়। ওই নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক হয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হয় জামায়াত। ২০০৮ সালে ৩৯ আসনে প্রার্থী দেয় দাঁড়িপাল্লা। বিএনপির মতো জামায়াতেরও ভরাডুবি হয়। ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দুটি আসন পায়।
২০১৩ সালের আগস্টে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে। এর মাধ্যমে দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়। ২০১৪ সালে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন বর্জন করে। ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের ২১ নেতা নির্বাচনে অংশ নেন। দুজন নির্বাচন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। তবে রাতের ভোটখ্যাত ওই নির্বাচনে জামায়াতের কেউ জয়ী হতে পারেননি।
ডামি নির্বাচনখ্যাত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও অংশ নেননি জামায়াত নেতারা। একই বছরের ১ আগস্ট জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত উঠে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নিষিদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ায় জামায়াতই এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়। সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দলটি নির্বাচনের ব্যাপক তৎপর ছিল। তবে প্রধান বিরোধী দলের আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের।




