বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনকারী ডা. কামরুলের হাসপাতালে যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর শ্যামলীতে সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর রাতেই শ্যামলীর ওই হাসপাতালে আসেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল। তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত এবং চাঁদা চাওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে জানাতে চান।
এ সময় অধ্যাপক কামরুল বলেন, সে (মঈন উদ্দিন) বলছে সে যুবদলের নেতা, কাউন্সিলর ইলেকশন করতে চায়। আমি বিষয়টা নিয়ে জিডি করছি, এখানকার নেতাদের জানাই। কিন্তু তার এত বিরাট প্রভাব যে কেউ কিছু করেনি।
পরে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি মঈন উদ্দিন আমাদের সংগঠনের কেউ না। এরা আমাদের সংগঠনের নাম ভাঙ্গায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স। এসব ঘটনা ঘটলে আমরা কিন্তু কাউকে ছাড় দেই না। পরে নয়ন তার ফোন থেকে র্যাবের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে মঈন নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন।
ঘটনার শুরু যেভাবে
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর শ্যামলীর চার নম্বর রোডের বাসিন্দা মঈন নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারির কাজ নেয়। কিন্তু মঈন খাদ্যপণ্যের দাম বেশি ধরায় তাকে সম্প্রতি বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে শুরু হয় হুমকি দেওয়া। লোকজন নিয়ে এসে হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করে, টাকা চায়। এরমধ্যে হঠাৎ করে একদিন বলা শুরু করল, একজনের কাছে সে পাঁচ লাখ টাকা পায়- সে টাকা দিতে হবে।
শুক্রবারের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একজন স্টাফের বাসায় গিয়ে ভোরে টাকা দিতে চাপ দেয় সে। আমার স্টাফ একটা ঘরে লুকিয়ে ছিল। এখন মঈনের দাবি ওই স্টাফকে বের করে দিতে হবে; আর না হয় তাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। আর নাহলে তাকে আবার ঠিকাদারির কাজ ফিরিয়ে দিতে হবে।




