
বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানের একক নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এ দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হামলায় যখন মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা খালেদা জিয়া।
তিনি আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্রিত হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিগত সময়ে এসব বিষয়ে নিয়ে পাঠ্যবইয়ে কিছুই ছিল না। জেন-জিরা দেশের ইতিহাস ভালো জানে না। কারণ, গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে দেয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে চায়। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের অস্তিত্ব। ২৪’র গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমাদের আরেকটি গৌরবের ইতিহাস। আমরা জুলাই সংগ্রাম ও অভ্যুত্থানকে ধারণ করি।
দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তাই বিএনপিতে কোনো দুষ্ট মানুষের ঠাঁই হবে না। এ সময় অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী স্থান। এখানেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রথম সুসংগঠিত সামরিক রণকৌশল নির্ধারণ করা হয় এবং যুদ্ধকে ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে বিভক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ এবং এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এশিয়া পোস্ট




