বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
আমরা ৫৩ বছর দেখেছি, বিএনপি দেখেছি, আওয়ামী লীগ দেখেছি, জাতীয় পার্টি দেখেছি, কিন্তু ইসলাম আমরা দেখি নাই। দেশের মানুষের কাছে একবারের জন্য ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠার সুযোগ চাই। ইসলাম কায়েম হলে দেশে আর মায়ের কোল খালি হবে না, চাঁদাবাজি ও অবিচার থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে পাঁচ দফা দাবিতে আট দল আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিগত সরকারের দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
চরমোনাই পীর বলেন, আজকে এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশালের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। ৫৩ বছর মানুষ চেয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- ৫৩ বছর আমরা না পাওয়ায় আজকে সমাবেশের মাধ্যমে তা আলোর মুখ দেখার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা প্রেমিক রয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময় মুখরোচক কথার মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশের মানুষকে বারবার বোকা পেয়ে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পরে বারবার ওই ক্ষমতার চেয়ারে বসে আমাদের হাজার হাজার মায়ের কোলকে সন্তানহারা করেছেন। আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই দেশকে বারবার চোরের দিক থেকে তামাম দুনিয়ার মধ্যে ফার্স্ট বানিয়েছে। আজকের সমাবেশ থেকে সেই খুনিদেরকে, সেই চাঁদাবাজদেরকে, সেই টাকা পাচারকারীদেরকে- যারা বিদেশের তাঁবেদারি করে আমাদেরকে গোলামির জিঞ্জিরায় আবদ্ধ করে রেখেছিল, তাদেরকে মেসেজ দিতে চাই যে, আর খুনিদের জায়গা, চাঁদাবাজদের জায়গা আর বিদেশে টাকা পাচারকারীদের জায়গা বাংলার জমিনের মধ্যে হবে না। তাদের উৎখাত করতে হবে, মানবতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সমাবেশ শেষে মুফতি রেজাউল করীম বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ জামায়াত নেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াসহ জামায়াতের আব্দুল্লাহ তাহের ভাইসহ অনেকেই অসুস্থ, দোয়া চেয়েছি আল্লাহ সবাইকে সুস্থ করুক।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতারা বক্তব্য দেন।




