তেহরানসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের বিমান হামলা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইরানের রাজধানী তেহরান ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানসহ বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আলজাজিরার খবর জানায়, ইসফাহানের পাহাড়ি এলাকায় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা বর্ষণ করা হয়েছে, যার ফলে এক মাসের এই যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ও আগুনের আভা দেখা গেছে সেখানকার আকাশে।

 

তেহরানে দফায় দফায় হামলার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজধানী সংলগ্ন কারাজ শহরের বড় ওষুধ কারখানা তৌফিক দারু লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এতে ক্যানসার ও এমএস রোগের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯০ শতাংশই দেশে তৈরি করে।

 

এছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কেন্দ্র, ইস্পাত কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে। উত্তর তেহরানে গত সপ্তাহে এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও তার দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।

এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তিনি ইরানের তেল, গ্যাস ও পানি শোধন কেন্দ্রগুলোও ধ্বংস করে দেবেন।

 

তবে হামলার মুখে দমে না গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি দখল করার যে স্বপ্ন আমেরিকা দেখছে, সেই স্বপ্ন নিয়েই তাদের কবরে যেতে হবে।’

 

এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা আমেরিকার দুটি উন্নত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

 

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশের ভেতরে ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার অভিযোগে দুজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন বা ইসরায়েলি মদদে যারা বিক্ষোভ করবে বা হামলার ছবি বিদেশে পাঠাবে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছেন, আইআরজিসি এখনই কোনো ছাড় দিতে রাজি নন।

 

তবে পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top