ইরানে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরোধী তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ইরানে বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির সঙ্গে উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় দেশটিতে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিয়েছেন। বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে ‘শক্ত প্রতিরোধের’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ তুরস্ক জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরোধী।

বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। ইরানের জন্য তার বাস্তব অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিজে নিজেই সমাধান করা প্রয়োজন। ইরানে অস্থিতিশীলতা পরিহার করাই তুরস্কের অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে দেখলে এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি, যা ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন কিছু দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছে। তবে বিদ্যমান নীতির যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং তা প্রশমনে যে অক্ষমতা রয়েছে, তা গভীর সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমরা এখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ চাই না।’

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরান এক বিপুল জনসংখ্যার বৈচিত্র্যময় সমাজ। জীবনের গভীর আকাঙ্ক্ষা থাকা এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক উন্নত জনগণের বাস রয়েছে সেখানে। যখন আপনি এ ধরনের কোনো সমাজকে কিছু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চান, এ ধরনের সমস্যার উদ্ভব হবে। তবে সবাই যে বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে, অর্থনৈতিক ও অন্য সমস্যায় দুর্ভোগে পড়া মানুষ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আদর্শিক গণঅভ্যুত্থান করবে। কিন্তু বাস্তবতায় এটি অনিশ্চিত এক অবস্থা।’

হাকান ফিদান জানান, তুরস্কের জন্য ইরান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সংকটই তুরস্ককে ‘উদ্বিগ্ন করে’। তেহরানের সমস্যা সমাধান আংকারাকেই লাভবান করবে।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, আমেরিকা ও ইরান তাদের মধ্যকার বিষয় সমাধান করবে, হয়তো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বা অন্য অংশীদারদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা চাই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক। আমি মনে করি, ইরান ঘিরে যে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা পুরো অঞ্চলের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’

এদিকে শুক্রবার ইরানে বিক্ষোভের ২০তম দিন পার হয়েছে শুক্রবার। অবশ্য এর মধ্যেই দেশটিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে এক সপ্তাহ পার হলেও ইরানে ইন্টারনেট এখনো বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানী তেহরানে প্রধান জুমার নামাজে খতিব সাইয়েদ আহমদ খাতামি বিক্ষোভের নামে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ নিন্দা জানান। খুতবায় তিনি বলেন, ‘শত্রুরা দেশের মধ্যে বিভেদের কল্পনা করেছিল। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ইরানি জীবিত আছেন, তারা এক ইঞ্চি জমিও দখলের অনুমতি দেবেন না।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার পুরো দেশে সহিংস বিক্ষোভে ‘দাঙ্গাবাজদের হামলায়’ নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে শুক্রবার নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রেসটিভির খবরে বলা হয়েছে, দাঙ্গায় যুক্ত থাকায় সারা দেশে অন্তত তিন হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, আটকদের মধ্যে অনেকেই সরকারি ভবন, মসজিদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার আহমদ রেজা রাদান এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। বহির্বিশ্ব থেকে দফায় দফায় ‘দাঙ্গার’ আহ্বান সত্ত্বেও সারা দেশে কোনো সহিংসতা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ও জনতার সচেতন অবস্থানে, সন্ত্রাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে।’

ব্রিগেডিয়ার রাদান বলেন, জনতার উপস্থিতি মাঠে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে সহজ করে দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও জনতার সহায়তাতেই এ বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top