মোঃ মিজানুর রহমান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ওই প্রতিষ্ঠানের আয়া মাসুমা বেগম (৩৬)। দীর্ঘ পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৬ জুলাই শনিবার সকালে ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত মাসুমা ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রুন্দি গ্রামের মো. সেলিমের স্ত্রী। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রুন্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। শনিবার রাতেই মাসুমার লাশ গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। লাশের গাড়ি দেখার জন্য আশপাশের মানুষজন ভিড় জমায়।
নিহতের স্বামী মো. সেলিম বলেন, আমরা রাজধানীর তুরাগ থানার নয়ানগর এলাকার শুকরা ভাঙ্গাতে থাকতাম। আমি একটি বায়িং হাউজে চাকরি করি আর আমার স্ত্রী মাসুমা প্রায় ৪/৫ বছর ধরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়া হিসেবে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি স্কুলে ছিলেন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়, পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বার্ণ ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার সকালে মারা যান।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী খুবই ভালো মানুষ ছিলেন, স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের যত্ন নিতেন। আমাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে উত্তরার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মাকে হারিয়ে তারা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে। আমি নিজেই শোকে পাথর হয়ে গেছি। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমার স্ত্রীকে জান্নাতবাসী করেন।




